ডিসেম্বর ধরে নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

চলতি বছরের ডিসেম্বর ধরে নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো প্রস্তুতি নেই নির্বাচন, একটাই প্রস্তুতি। গতকাল মঙ্গলবার ইউএনডিপিসহ উন্নয়ন সহযোগী ১৮টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনা এ এমএম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ১৬ ডিসেম্বরের বক্তব্যে বলেছিলেন, যদি অল্প পরিমাণে সংস্কারসহ নির্বাচন করতে হয়, সেখানেই যদি রাজনৈতিক মতৈক্য গিয়ে দাঁড়ায় তাহলে এই বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন করা সম্ভব। আর যদি আরেকটু সংস্কার করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে ২০২৬ সালের জুন নাগাদ নির্বাচন করা সম্ভব। আমরা বলেছিলাম আমাদের নিকটবর্তী সময়টা ধরে প্রস্তুতি নিয়ে নিতে হচ্ছে। আমাদের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত আমরা ডিসেম্বর কে ধরে নিয়েই আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখেছি পাঁচ স্তরে যদি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পুরোটা করতে হয় তাহলে এটাই এক বছর সময় লাগবে। আর এই কন্ডিশনাল ব্যাপারগুলো নিয়ে স্পেসিফিক টাইমলাইন দেওয়া সম্ভব না। তবে আমরা ধারণা করি সরকার আমাদের হাতের টাইমগুলো বিবেচনায় নেবেন। ওরা যদি মনে করেন জাতীয় নির্বাচনটাকে কোনো একটা টাইমে ফ্রেম করে কতটুকু অনুশীলন করা যায় সেটা তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হলে ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার কতটুকু হবে, কোন কোন ইনস্টিটিউশনের হবে সেটা সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তখন আমরা বলতে পারব এটা জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কি না।

এদিকে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা ইসিকে সমর্থন দিচ্ছি। আশা করছি, বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা নির্বাচন হবে। এটাই আমাদের চাওয়া। কিন্তু সময়সীমার পরিপ্রেক্ষিতে এটি অন্তর্র্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ রকম নির্বাচন অনুষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটা আমার মন্তব্য করার বিষয় নয়।

লিলার বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের কাছে নির্বাচন আয়োজনে সহায়তার অনুরোধ করেছিল নির্বাচন কমিশন। জবাবে জাতিসংঘ কী ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারে, তা নির্ধারণের জন্য জানুয়ারিতে দুই সপ্তাহের জন্য একটি চাহিদা মূল্যায়ন দল বাংলাদেশ সফর করেছিল। সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত