নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া সংবিধান সংস্কারের অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, সুতরাং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। যেসব সংস্কার আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, বুদ্ধিজীবীরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, ছাত্রদের মুখ দিয়ে বলাচ্ছেন, সেই সব সংস্কার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা করবেন।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা। এই ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আলটিমেটাম দিলে জনগণ সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু বুদ্ধিজীবী গজিয়ে উঠেছে। এই বুদ্ধিজীবীরা ১৭ বছরে একটা শব্দও উচ্চারণ করে নাই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে। তারা ফ্যাসিস্ট সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে (মিডিয়া) কী ধরনের তৈলমর্দন করা হয়েছে তা লক্ষ্য করেছেন। এভাবে এই দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ক্রমাগত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, এখন কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী বলে, আগে সংস্কার করে পরে নির্বাচন। তবে, দুষ্টু লোকেরা বলে এই সংস্কারের প্রধান উদ্দেশ হলো নির্বাচনের জন্য সময়ক্ষেপণ এবং নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়কে দীর্ঘায়িত করা। তারা ছাত্রদেরকে দিয়ে নতুন দল গঠন করার চেষ্টা করছে। এই দলকে সংগঠিত হওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়ার জন্য তথাকথিত সংস্কারের প্রস্তাব জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা পালিয়েছে, সংস্কারের অর্ধেক তো হয়েই গেছে উল্লেখ করে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, বাকি যেসব সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো তিন মাসের মধ্যেই করা যায়। আর দীর্ঘমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী সংস্কারের কথা যারা বলছেন— এসব সংস্কার করার প্রকৃত অধিকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। নির্বাচিত পার্লামেন্টই সংস্কার করতে পারে।
তিনি বলেন, জনগণ তিন তিনটি নির্বাচনের প্রহসন দেখেছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে আমাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। তাই জনগণ আর প্রহসন দেখতে চায় না।
তিনি আওয়ামী লীগের পতন থেকে নেতাকর্মীদের শিক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার উদাহরণ। তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। সীমান্ত অতিক্রম করেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না। গ্রাম-গঞ্জে চতুর্দিকে এখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের রোল মডেল খুঁজলে আমাদের চোখের সামনে একটি প্রতিচ্ছবিই ভেসে উঠে— তিনি হলেন মেজর জিয়াউর রহমান।
