দেওবন্দের ওলামায়ে কেরাম পূর্বসূরিদের অনুসৃত পন্থাকে গ্রহণ করেন। তাদের কাজ কেবল মাদ্রাসার চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। যেখানে ইসলামকে রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন পড়েছে, সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বেদআতের প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন। দেশকে স্বাধীন করার প্রয়োজন হলে ইংরেজদের জেলে গিয়েছেন। যেকোনো প্রয়োজনে তারা ইসলামকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
দেওবন্দের আলেমদের সংগ্রামের ইতিহাস শুধু এক-দুদিনের নয়, এটি প্রায় ১৫০ বছরের ইতিহাস, ১৮৬৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত। ইতিহাসে রয়েছে তাদের ত্যাগ ও কোরবানির কথা। তবে এসব ইতিহাস উর্দু ভাষায় লিখিত। যেহেতু বাংলাদেশে দেওবন্দের ওলামায়ে কেরামের বড় একটি পরিমণ্ডল রয়েছে, যারা দেওবন্দে গেছেন বা দেওবন্দের ছাত্রদের থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ দেওবন্দের প্রকৃত ইতিহাস জানে না। অনেকের ধারণা, দেওবন্দের ইতিহাস কেবল মাদ্রাসার মধ্যে পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি এমন নয়। যদি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনকে দেখা হয়, তবে দেখা যাবে তিনি শুধু শিক্ষকই ছিলেন না। তিনি কোরআনের জ্ঞান প্রচার করেছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
‘দারুল উলুম দেওবন্দ কী জামে ওয়া মুখতাসার তারিখ’ এমনই উর্দুতে লিখিত একটি গ্রন্থ। দেওবন্দ মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এটি বাংলায় অনুবাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে দেওবন্দের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই ইতিহাস জানতে পারেন। আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে এই বইয়ের অনুবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দেওবন্দের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাবে। আমাদের পূর্বসূরিদের খেদমতের কথা জানা জানা যাবে। তারা মাদ্রাসার চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ না থেকে যেখানে যে খেদমতের প্রয়োজন হয়েছে, সেখানেই জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।
এই একটি মাদ্রাসা থেকে আজ লক্ষাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে যাওয়া হয়, সেখানেই মাদ্রাসা দেখা যায়। এই মাদ্রাসাগুলো হয় দারুল উলুম দেওবন্দের সন্তান, নয়তো তার সন্তানের সন্তান। বাংলাদেশেও অসংখ্য মাদ্রাসা রয়েছে, যার প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। এসব মাদ্রাসা দারুল উলুম দেওবন্দের ঐতিহ্যের ধারক।
দারুল উলুম দেওবন্দের দীর্ঘ গৌরবময় এই ইতিহাস ‘দারুল উলুম দেওবন্দ কী জামে ওয়া মুখতাসার তারিখ’ বইয়ে লিপিবদ্ধ রয়েছে। লেখক : ড. মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ কাসেমি। এর বঙ্গানুবাদ ‘দারুল উলুম দেওবন্দ : ইতিহাস, ঐতিহ্য, অবদানের গৌরবদীপ্ত দেড় শতাব্দী’। সম্পাদনা : বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। সম্পাদনা সহায়তা : মাওলানা মুফতি শফিকুল ইসলাম ও আহমাদুল্লাহ নোমান। অনুবাদ : মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা মুফতি শফি কাসেমি, মাওলানা শাহ আহমাদ সাঈদ, মাওলানা সাইফুদ্দীন ইউসুফ ফাহিম, মাওলানা মুফতি জাবের কাসেমি, মাওলানা ফখরুল হাসান, মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের। প্রকাশক : শাইখুল ইসলাম একাডেমি, দারুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা। পরিবেশনায় : মাকতাবাতুল কাসেমী
আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। স্থান : মাকতাবাতুল আযহার, স্টল নং : ২৭৫, অমর একুশে বইমেলা ২০২৫। এতে উপস্থিত থাকবেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, সম্পাদক ও গুণীজন। মহতী অনুষ্ঠানে আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।
