দোয়া শক্তিশালী ইবাদত। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার হৃদয়ের সংযোগ ঘটায়। দোয়ারও রয়েছে কিছু আদব ও শিষ্টাচার। সেই আদবের অন্যতম হলো, দোয়ার আগে মহান আল্লাহর প্রশংসা করা। কোরআন-হাদিসে এ বিষয়ে চমৎকার কিছু দোয়া ও প্রশংসাবাক্য শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এক. ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি এওমিদ দ্বীন।’ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। (সুরা ফাতিহা ১-৩)
দুই. ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি খালাকাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা ওয়া জাআলাজ জুলুমাতি ওয়ান নুর। ছুম্মাল্লাজিনা কাফারু বিরাব্বিহিম এদিলুন।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও জমিন এবং সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো। তারপর কাফেররা তাদের রবের সমতুল্য স্থির করে। (সুরা আনআম ১)
তিন. ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আনজালা আলা আবদিহিল কিতাবা ওয়া লাম এজআল্লাহু ইওয়াজা।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তার বান্দাদের প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন, আর তাতে কোনো বক্রতার অবকাশ রাখেননি। (সুরা কাহাফ ১)
চার. ‘ওয়া হুওয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু। লাহুল হামদু ফিল উলা ওয়াল আখিরাহ। ওয়া লাহুল হুকমু ওয়া ইলাইহি তুরজাউন।’ অর্থাৎ আর তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) মাবুদ নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে সব প্রশংসা তারই, বিধান তারই। আর তার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সুরা কাসাস ৭০)
পাঁচ. ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদি, ওয়া লাহুল হামদু ফিল আখিরাহ, ওয়া হুওয়াল হাকিমুল খাবির।’ অর্থাৎ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশ ও পৃথিবীতে যা আছে সবকিছুর মালিক। আখেরাতেও প্রশংসা তারই, তিনি মহা প্রজ্ঞাশীল, সব বিষয়ে অবহিত। (সুরা সাবা ১)
ছয়. ‘আশহাদু আন্নাকা আন্তাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা। আল আহাদুস সামাদ। আল্লাজি লাম এলিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম একুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।’ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি একক, অদ্বিতীয়, সবার মুখাপেক্ষীর একমাত্র অবলম্বন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি আর তার সমান বা সমকক্ষ কেউ নেই (আবু দাউদ ১৪৯৩)
কোনো দোয়াই বিফলে যায় না। হয়তো দেরিতে কবুল হয়। কিংবা দোয়ার প্রতিদান পরকালের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। যেভাবে দোয়া করলে কবুল হয়, সেভাবেই দোয়া করা উচিত। তাই আমাদের উচিত, দোয়া করার শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রশংসা করা এবং প্রিয়নবী (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা। এতে দোয়া দ্রুত কবুল হয়।
লেখক : ইসলামি গবেষক