মহানবী (সা.)-এর জীবনকথা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৩ এএম

যুগে যুগে যেসব মহামানব দুনিয়াতে আগমন করে অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে মানবজাতিকে ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির পথ দেখিয়ে পৃথিবীকে ধন্য করেছেন, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি মানবজাতিকে সত্য পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য ইসলামের আদর্শ ও সত্যবাণী প্রচার করে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষের আলোর দিশারী। মানুষের মুক্তি, শান্তি, শিক্ষা ও কল্যাণের জন্য তিনি আজীবন সাধনা করেছেন। তিনি সর্বগুণে গুণান্বিত একজন শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের সময় সমগ্র আরবে চরম এক অরাজকতা বিরাজ করছিল। গোত্রে গোত্রে কোন্দল, মারামারি, অহেতুক রক্তক্ষয় ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ব্যাভিচার, মদপান, জুয়াখেলা, খুন, চুরি, ডাকাতি প্রভৃতি অপকর্মে এক ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছিল সমাজে। তারা এক আল্লাহর পরিবর্তে একাধিক উপাসকের উপাসনা করত। নারীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা বা অধিকার ছিল না। এমনকি সেই সময় জীবন্ত কন্যা শিশুদের গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেওয়া হতো। ঠিক এ রকম এক ভয়াবহ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আরবের মক্কা নগরীর বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম আমেনা। তার জন্মের আগেই তার পিতা মারা যান এবং ছয় বছর বয়সে মাতা আমেনাও ইন্তেকাল করেন। তৎকালীন আরবের প্রথা অনুযায়ী তাকে শিশু অবস্থাতেই ধাত্রী বিবি হালিমার গৃহে প্রতিপালিত হতে হয়।

পিতা-মাতার ইন্তেকালের পর হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং তার মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিবের আদর-স্নেহে লালিত-পালিত হতে থাকেন। চাচা আবু তালিবের আর্থিক অবস্থা অসচ্ছল থাকায় তার বাল্যকাল কাটে অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টে। বাল্যকাল থেকেই তিনি খুব পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি চাচা আবু তালিবের ব্যবসায়িক কাজে সহযোগিতা করতেন এবং মেষ চরাতেন। পাহাড়ের কাছে কাছে মেষ চরানোর সময় প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য তাকে ভাবিয়ে তুলত। তিনি প্রায়ই গভীর চিন্তায় নিমগ্ন থাকতেন। তার পড়ালেখা কোনো বিদ্যালয়ে হয়নি। তার শিক্ষার স্থান ছিল সারা দুনিয়া। বিশ্ব প্রকৃতি ও সৃষ্টি বৈচিত্র্য তার চোখের সামনে অফুরন্ত জ্ঞান ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। বাল্যকালেই সততা ও সত্যবাদিতার জন্য তার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার সত্যবাদিতার জন্য আরবের লোকেরা তাকে ‘আল আমিন’ বা বিশ্বাসী উপাধি দিয়েছিল। এক কথায় তিনি পৃথিবীর সব প্রাণী ও জীবজন্তুর উপকারী বন্ধু ছিলেন।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কয়েকজন যুবককে নিয়ে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন। এর মাধ্যমে তিনি তৎকালীন আরবের চলমান হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি ও হানাহানি বন্ধ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তার এ প্রচেষ্টার ফলে সমাজে শান্তি ফিরে আসে। সব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব এবং গোত্রে গোত্রে সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। ফলে তার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স যখন ২৫ বছর, তখন তিনি খাদিজা নামে মক্কার এক ধনবতী মহিলার প্রতিনিধি হিসেবে সিরিয়াতে বাণিজ্য করতে যান। এই বিধবা মহিলা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র গুণ ও সত্যবাদিতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাজি হন এবং তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় খাদিজা (রা.)-এর বয়স ছিল ৪০ বছর। বিয়ের পর থেকেই হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরোপকার ও সমাজ সংস্কারে মনোযোগ আরও বাড়িয়ে দেন। তাদের বিয়ের পর আরব দেশে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এ সময় মানবপ্রেমিক হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা (রা.) প্রদত্ত ধনসম্পদ অকাতরে বিতরণ করেন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার কাজে। দেশবাসী তার সর্বত্যাগী মানবকল্যাণের মহিমান্বিত রূপ দেখে বিস্মিত হয়।

বাল্যকাল থেকেই হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন খুব চিন্তাশীল। তিনি মানুষ সৃষ্টি ও স্রষ্টার কথা গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন। তিনি সবসময় সৃষ্টির মূল রহস্যসহ এর সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার কথা চিন্তা-ভাবনা করতেন এবং অসহায় আর্তপীড়িত মানুষকে সাহায্য করার জন্য চিন্তামগ্ন থাকতেন। মাঝে মাঝে তিনি মক্কার অদূরবর্তী হেরা পর্বতের নির্জন গুহায় মহান আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন। তিনি সর্বদা চিন্তা করতেন, কীভাবে মানবজাতিকে মূর্তিপূজা, অগ্নিপূজা ও শিরক হতে মুক্ত করবেন এবং কীভাবে তাদের এক আল্লাহর পথে নিয়ে আসবেন। তিনি কখনো কখনো একাধারে দুই-তিনদিনও সেখানে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এভাবে দীর্ঘ পনেরো বছর ধ্যান সাধনার পর ৬১০ খ্রিস্টাব্দে চল্লিশ বছর বয়সে তিনি ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মহান আল্লাহর প্রেরিত ফেরেশতা হজরত জিবরাইল আলিইহিস সালামের মাধ্যমে নবুওয়াত লাভ করেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত জিবরাইল আলিইহিস সালাম হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লামকে কোরআনের যে কয়েকটি আয়াত প্রথমে পৌঁছে দেন সেগুলো হলো, ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। মানবজাতিকে তিনি সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পড়ো, তোমার প্রতিপালক সম্মানিত, যিনি কলম দিয়ে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না। (সুরা আলাক ১-৫) এমনিভাবে ঐশী বাণীর মাধ্যমে তার ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। তার ওপর কোরআন নাজিল হওয়ার পর থেকে তিনি নবী ও রাসুল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভের কিছুদিন পর আবার তার প্রতি ওহি পাঠিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুল! আপনার প্রতিপালকের কাছ থেকে আপনার প্রতি যা নাজিল হয়েছে তার প্রচার করুন।’ (সুরা মায়েদা ৬৭) তাই নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তিনি ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেন। ইসলাম ধর্মের মূলবাণী হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। অর্থাৎ ‘এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা.) তার প্রেরিত রাসুল।’ এই মহাসত্য তিনি প্রচার করতে থাকেন। এই সত্য প্রচারের জন্য তাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। মক্কার একদল বিপদগামী লোক তাকে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্ভীক। কোনো বাধাই তাকে সত্যধর্ম প্রচার থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাদের অত্যাচার সহ্য করেন এবং নীরবে এক আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের প্রতি মানুষকে আহ্বান করতে থাকেন। তিনি আরব সমাজের কুসংস্কার দূর করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলাম ধর্ম প্রচারকালে তার হাতে মহিলাদের মধ্যে হজরত খাদিজা (রা.) এবং পুরুষদের মধ্যে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), ছোটদের মধ্যে হজরত আলী (রা.) ও জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এভাবে ইসলামের আলো ক্রমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

মক্কায় কুরাইশদের নির্যাতনের মাত্রা যখন বেড়ে গেল এবং ইসলাম প্রচার বাধাগ্রস্ত হলো তখন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হজরত আবু বকর (রা.)-কে নিয়ে মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় গমন করেন। তার এই মদিনা গমনকেই হিজরত বলা হয়। মদিনার পূর্বনাম ছিল ইয়াসরিব। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমনের পর তার সম্মানার্থে এর নাম রাখা হয় ‘মদিনাতুন্নবী’ বা নবীর শহর, সংক্ষেপে মদিনা। মদিনার সকলে পরম আগ্রহ ও ভালোবাসায় তাকে গ্রহণ করলেন। এ সময় মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। তার হিজরত ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে ইসলাম নতুন গতি ও নতুন শক্তি লাভ করে। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করেন। মুহাজির অর্থ হিজরতকারী। মক্কা থেকে হিজরত করে যারা মদিনায় যান তাদের বলা হয় মুহাজির। মুহাজিরদের যারা মদিনায় আশ্রয় ও সাহায্য-সহযোগিতা দেন তারা হলেন আনসার। আনসার অর্থ সাহায্যকারী। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। যেখানে মুহাজির ও আনসারসহ সব মুসলমান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যেমন ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য মতাদর্শের লোক একত্রে মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে নিরাপদে বাস করবে। তাদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে এবং স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মকর্ম পালন করতে পারবে। সঙ্গে সঙ্গে মদিনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। এই উদ্দেশে তিনি সব সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, যা মদিনা সনদ নামে পরিচিত। এটিই পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সনদ। মদিনা সনদ হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লামের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং সুন্দর সমাজ গঠনের এক জ¦লন্ত স্বাক্ষর বহন করে।

মদিনায় ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হতে দেখে মক্কায় কুরাইশদের ঈর্ষার সূচনা হয়। তারা মদিনাবাসীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইহুদিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ইসলাম ধর্ম ধ্বংস করতে চেষ্টা করে। তাই হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লামকে বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। এগুলোর মধ্যে বদরের যুদ্ধ, ওহুদের যুদ্ধ ও খন্দকের যুদ্ধ বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। বিধর্মীরা প্রায় সব যুদ্ধেই পরাজয় বরণ করে। অবশেষে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লামের প্রচারিত ইসলাম ধর্মে কোনো শোষণ, নিপীড়ন, অত্যাচার-নির্যাতন,  জাতিভেদ, বর্ণভেদ, উঁচু-নিচু এবং ধনী-গরিবের কোনো বৈষম্য নেই। এ জন্যই মহান আল্লাহর এই ধর্ম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে আজ পর্যন্ত টিকে আছে এবং আজীবন টিকে থাকবে।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম দশম হিজরিতে মক্কায় হজ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এটি ছিল তার জীবনের শেষ হজ। তিনি এরপর আর হজ করার সুযোগ পাননি। তাই একে বিদায় হজ বলে। এতে প্রায় সোয়া এক লাখ মুসলমানের সমাগম হয়। আরাফাত ময়দানে পর্বতের চূড়ার ওপর দাঁড়িয়ে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মর্মস্পর্শী যে ভাষণ দিয়েছিলেন, ইতিহাসের পাতায় তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তিনি মুসলমানদের উদ্দেশে তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে তাদের ইসলামিত বিধিবিধান ও হজের আহকাম শিক্ষা দেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণী তেলাওয়াত করে শুনান, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সুরা মায়েদা ৩)

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম তার ভাষণে বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব (কোরআন), আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ।’ তিনি বলেন, ‘হে মানবজাতি! পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের অপরাধে কোনো পিতাকে দায়ী করা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হে মানবজাতি! ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

হজ শেষ করে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন। এর তিন মাস পর তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। যতদিন তার শরীরে শক্তি ছিল, ততদিন তিনি নামাজে যোগ দিতেন। কিন্তু শেষে তার শরীর এতই দুর্বল হয়ে পড়ল যে, তিনি হজরত আবু বকর (রা.)-কে তার পরিবর্তে নামাজের ইমামতি করতে আদেশ দেন। অতঃপর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ৮ জুন সোমবার ৬৩ বছর বয়সে মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন। মদিনার মসজিদে নববীর এক পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। বিশ্বের মুসলমানগণ ভক্তিভরে নবীজির রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর, তার বংশধর, তার সাহাবিগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত