রিজভী বললেন

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও একুশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২০ এএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে প্রতিটি আন্দোলনে একুশের ভূমিকা রয়েছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও একুশের চেতনা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মরণে জাতীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারিকে এ দেশের জনগণ একদিকে  যেমন দুঃখের দিন মনে করে, অন্যদিকে প্রেরণা ও গৌরবের দিন হিসেবেও মনে করে। কারণ, একুশের পথ ধরেই ছাত্র আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং চূড়ান্ত স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি। এই পথ ধরেই নব্বইয়ের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে।’

একুশের চেতনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এই নেতা বলেন,  ‘যদি আবার কখনো কোনো ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটে,  কোনো স্বৈরশাসকের উত্থান ঘটে, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের দামাল ছেলেদের দেশের জনগণকে রাজপথে নেমে লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রিজভী বলেন, ‘জনগণের পক্ষের  কোনো রাজনীতিবিদ কখনও পালায় না। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আপনার দেখেছেন এত উৎপীড়ন-অত্যাচার এত বন্দিত্ব... তারপরও তিনি তার জনগণ আর দেশ ছেড়ে যাননি। এটাই হলো পার্থক্য বিএনপির সঙ্গে তাদের।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে, তাদের রক্তাক্ত পথ  পেরিয়ে চূড়ান্ত যে আন্দোলন, মহাবিপ্লব জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে সেই ভয়ংকর উৎপীড়ক এবং রক্তপিপাপু  স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি আপনারা সংস্কার করবেন কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, সেটা আপনারা শেষ করবেন, সংসদ নির্বাচনের দিকে আপনারা এগোবেন।’

‘আগে স্থানীয় সরকার নাকি পরে জাতীয় সরকার এই বিতর্কে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের অংশ নেওয়া উচিত নয়’ এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘বরং এই সরকারকে জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে যে সরকার গঠন করবে তারাই নির্ধারণ করবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্যান্য নির্বাচন কখন হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলে স্থানীয় সরকারে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব। কোনো বিতর্ক করে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কিছুই নেই।’

খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, দলীয় অবস্থান নয় : রিজভী বলেন, ‘বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এটি বিএনপির দলীয় অবস্থান নয়। আমাদের কিছু কিছু নেতা  ফেসবুকে বা বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্যে বলছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন,  দেশনেত্রী বেগম জিয়া রাষ্ট্রপতি হবেন। এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। কিন্তু এটি আমাদের দলের অবস্থান নয়।’

এর আগে ভোর সাড়ে ছয়টায় নিউমার্কেটের কাছে বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিশাল প্রভাতফেরি আজিমপুর কবরস্থানে যায় রিজভীর নেতৃত্বে। সেখানে ভাষাশহীদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ করে  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসে বিএনপির প্রভাতফেরি। নেতা-কর্মীরা কালোব্যাজ ধারণ করে। রিজভীর নেতৃত্বে শহীদ মিনারের বেদিতে বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ সময় রিজভী ছাড়াও ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল,  কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক, ইশরাক হোসেন, মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত