সারাদেশে ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌন মিছিল, নগ্ন পদযাত্রা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘তীর্থক’ নাট্যসংগঠন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে থেকে মোমবাতি হাতে নগ্ন পদযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন সংগঠনটির সদস্যরা।
নগ্নপদযাত্রা ও সমাবেশে তারা ‘প্রীতিলতার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘শাসকের কানে নিপীড়িতের স্বর কী এখনো পৌঁছায়নি’, ‘নারীর নিরাপত্তা কোথায়?’, ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘নারীরা কী রেহাই পাবে না’, ‘সুস্থ সুন্দর দেশ চাই, নারীদের সম্মান রক্ষার্থে সবাই সচেতন হই’, ‘সিন্ডিকেট না ভেঙে মাজার’ প্রভৃতি প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।
তীর্থক নাট্যদলের সভাপতি সৌরভ দাস বলেন, ‘যুগযুগ ধরে তীর্থক নাটক শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে চলা ধর্ষণ, ডাকাতি ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খল পরিবেশের প্রতিবাদে আমাদের আজকের এই কর্মসূচি। আমাদের দাবি অতিদ্রুত এ পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকারকে কঠোরভাবে কাজ করতে হবে।’
কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘যখন আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি ঠিক তখনই দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠী নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। দেশজুড়ে তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করছে। প্রশাসনের কাছে আহ্বান থাকবে দ্রুত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা এমন একটা সমাজ চাই যেখানে নারীরা ধর্ষিত হবে না। তাদের অধিকার ও সম্মানের ওপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা হবে না। আমরা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের পরিবর্তে নারী অধিকার সম্বলিত সুন্দর সমাজ চাই। কিন্তু প্রশাসন কেন সারাদেশে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে পারছে না, এই প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান বের করতে হবে।’
