পাঁচ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এই কর্মবিরতি চলছে। এতে সকাল থেকে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- এমবিবিএস ও বিডিএস ব্যতীত কেউ চিকিৎসক লিখতে পারবে না। বিএমডিসির উক্ত আইনের বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন শুধু এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সালে হাসিনা সরকার ম্যাটসদেরকে বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করেছে, এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওটিসি ড্রাগ লিস্ট আপডেট করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি ড্রাগ লিস্টের বাইরে ড্রাগ প্রেসকিবেল করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি লিস্টের বাইরে কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে দ্রুত ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে সকল শূন্য পদ পূরণসহ আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে পূর্বের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিবছর ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসকদের বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
সকল মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজসমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। ইতিমধ্যে এসএসসি পাশ করা (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদের স্যাকমো পদবি রহিত করে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া চিকিৎসকদের জন্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডক্টরস আসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. আরাফাত হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করেছে; যা ছিলো সম্পূর্ণ বেআইনি ও আত্মঘাতী। আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যখাতের বিপ্লব সাধনের জন্য ৫ দফা দাবি পেশ করেছি। আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, ৫ দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চললেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে। তারা আমাদের দাবি পূরণের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তাদের এই উদাসীনতায় আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা মনে করি, তারা আমাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের অন্যান্য সকল মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কর্মবিরতির কারণে যেন রোগীদের কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় ও সুচিকিৎসা পায় তার জন্য আমরা মিড লেভেলের চিকিৎসক যেমন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং অনারারি মেডিক্যাল অফিসার ও মেডিক্যাল অফিসারদের আরও কার্যকরভাবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছি।
