শরীয়তপুরে চার সাংবাদিকদের ওপর হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি নুরুজ্জামান শেখকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তন্ময় গাইন এ নির্দেশ দেন।
আর চার্জশিট না আসা অবধি বাকি পাঁচ আসামিকে ৫০০ টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করে। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি এক আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
ভুক্তভোগী আহত সাংবাদিক সোহাগ খান সুজন বলেন, হাতুড়ি আঘাতের আমার দুই কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার শ্রবণে সমস্যা হচ্ছে। যারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে আইনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।
শরীয়তপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শিমুল সরকার বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছিল ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক। সেই ঘটনায় আজ আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে প্রধান আসামি নুরুজ্জামান শেখকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আর বাকি পাঁচজনকে চার্জশিট না আসা অবধি ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায় গত ২৮ ডিসেম্বর সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক তার পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা না করায় রোগীর ব্যবস্থাপত্র ছুড়ে ফেলার বিষয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ওই রোগীর মৃত্যু হলে ২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকরা সদর হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহে গেলে ক্লিনিক ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান শেখের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। তখন সাংবাদিকদের হুমকি দেন নুরুজ্জামান। ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হাতুড়ি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সমকাল জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সোহাগ খান সুজনকে রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিউজ ২৪ বিধান মজুমদার অনি, বাংলা টিভির নয়ন দাস ও দেশ টিভির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম আকাশ হামলার শিকার হন। স্থানীয়রা সুজনসহ চার সাংবাদিককে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সুজন বাদি হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নুরুজ্জামান শেখ, শামীম, ইব্রাহিম, জিহাদ, মাকসুদা, মনির ও সালাউদ্দিনের নাম উল্লেখ করে ৮/১০জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
একটি দল সুযোগ পেলেই বিএনপিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে
দেশের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির দিকে যাচ্ছে: মির্জা ফখরুল