ব্যাংককে সবল-দুর্বল বললে এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে না

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো ব্যাংককে সবল বা দুর্বল বললে এ খাত কখনো ঘুরে দাঁড়াবে না বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ব্যাংক বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়, বরং বাঁচিয়ে রাখা দরকার। এক দিনে ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস বিষয়ে টাস্কফোর্সের সুপারিশ’ শীর্ষক দুদিনের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘ম্যাক্রো-ইকোনমিক পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স ইন দ্য ব্যাংকিং সেক্টর’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অনেক গুণী মানুষ। কিন্তু তিনি নিজে যদি বলেন, ভালো ব্যাংক, খারাপ ব্যাংক, সবল ব্যাংক, দুর্বল ব্যাংক, দুটি ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে এসব কথা বলা বন্ধ না করলে কোনো দিন ব্যাংক খাত ভালো হবে না। আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশি কথা বলে।’

সাবেক এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘টাস্কফোর্সে অর্থনীতিকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। মনে হয়েছে, দেশে কোনো রাজনৈতিক অবস্থা নেই। সবাই বাণিজ্যিক ব্যাংককে দুষছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবদান টাস্কফোর্সে অস্বীকার করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শর্ট টার্ম সঞ্চয়ের বিপরীতে লং টার্ম লোন দিচ্ছে। টাস্কফোর্সের রিপোর্টে এসব লেখা হয়নি। এসব কথা কাকে বলবেন, যাদের বলবেন তারা লুণ্ঠনে ব্যস্ত। টাস্কফোর্স বই দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ সংস্কার দরকার রাজনীতিতে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কার না হলে কোনো সমাধান হবে না। প্রতিবছর ১৮ লাখ নতুন মুখ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান কীভাবে হবে? মূল্যস্ফীতি কমানোর একটাই হাতিয়ার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে, সুদহার বাড়িয়ে বাজারে টাকার প্রবাহ কমানো। যে দেশে সব আমদানি করা, সেখানে সুদ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো কি সম্ভব? তারা বলছে, মূল্যস্ফীতি কমেছে, ১ শতাংশ কমেছে। আগামী মাসে দেখেন কী হয়।’

এর আগে একই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক খাতের অবস্থা কমবেশি আমরা সবাই জানি। আমরা চেষ্টা করছি। তবে কিছু কিছু ব্যাংক বাঁচানো সম্ভব হবে না। সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ কয়েকটা ব্যাংকের এনপিএল (খেলাপি ঋণ) ৮৭ শতাংশ হয়ে গেছে। অর্থাৎ ৮৭ ভাগ লোনেই একটা গ্রুপের হাতে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু ব্যাংক আমাদের সরাসরি সুপারভিশনে আছে। কোন ব্যাংককে আমরা কীভাবে রেজল্যুশনের দিকে নিয়ে যাব, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন পরপর আমরা বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। আমরা শিগগিরই একটা সিদ্ধান্তে আসব।’

এ ছাড়া সকালের আরেক সেশনে বক্তারা বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষিত জনশক্তি। কিন্তু বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষার অবস্থা গ্রহণযোগ্য মানের নিচে রয়েছে। সেজন্য শ্রমবাজারের গুণগত চাহিদার তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (একাডেমিয়া) এবং ডিগ্রিধারীদের দক্ষতায় গরমিল (মিসম্যাচ) বিরাজ করছে। এমনকি শিক্ষালয়গুলোর দক্ষতার অভাবে বৈশ্বিক মান রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন গ্র্যাজুয়েটরা। সেজন্য চতুর্থ শিল্প-বিপ্লব মোকাবিলাসহ প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতার উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও টাস্কফোর্সের সদস্য ড. রুমানা হক বলেন, শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, লিঙ্গবৈষম্য, নীতিগত সমস্যা প্রভৃতি দূর করতে কাজ করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান কাঠামো হালনাগাদ করা এবং তদারকি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বাড়ানো জরুরি।

একই দিনে ‘শিক্ষা, তরুণদের বেকারত্ব ও তরুণদের উন্নয়ন’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধে বিডিজবসডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাসরুর বলেন, উচ্চশিক্ষিত বেকারদের ৬২ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। এর অন্যতম কারণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী সমাজবিজ্ঞান বা কলার মতো বিভিন্ন বিষয়ে পড়েন, যার বাজার চাহিদা কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত