আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আন্দোলনের প্রস্তুতিসহ নানা কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার বর্ধিত সভা করবে বিএনপি। জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ বর্ধিত সভা হবে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, অন্যদিকে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা।
প্রস্তাব মিলিয়ে বর্ধিত সভা থেকে তৃণমূলে একটি বার্তা দেবে হাইকমান্ড। নির্বাচন সামনে রেখে দলের এই বর্ধিত সভাকে খুবই সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ৫ আগস্টের পর দেশের চলমান পরিস্থিতি, আগামী সংসদ নির্বাচন, দলীয় শৃঙ্খলা, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত আসবে এ সভা থেকে।
সভায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহানগর ও জেলার সব থানা, উপজেলা, পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ প্রায় চার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন। বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরাও থাকবেন। এ ছাড়া ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী এবং মনোনয়ন ইচ্ছুক যেসব প্রার্থী প্রাথমিক পত্র পেয়েছিলেন, তারাও এ সভায় অংশ নেবেন। তৃণমূলের বক্তব্য শুনবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে দেবেন দিকনির্দেশনামূলক বার্তা।
জানতে চাইলে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী দিনের জাতির প্রত্যাশা একটা সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও সাধারণ নির্বাচন। যেটি গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করার জন্য বেশি দরকার। সেই দিকে আমরা বেশি নজর দিচ্ছি। অবশ্যই আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক, দলীয় কর্মপন্থা এ সভা থেকে আসবে।’
তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের সময় নিয়ে সরকার বা কোনো পক্ষ বাড়াবাড়িতে গেলে বিএনপির মাঠের কর্মসূচি জোরদার করার পরামর্শ থাকবে তাদের। সংস্কারের নামে ভোটের তারিখ পেছানোর চেষ্টা হলেও অবস্থা বুঝে কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানাবেন তারা।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলসংলগ্ন মাঠে বর্ধিত সভার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। আজ সকাল ১০টায় এ বর্ধিত সভা শুরু হবে। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করবেন তারেক রহমান। উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমাদের শেষ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এই প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছে ‘বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন মিডিয়া উপ-কমিটি’। এজন্য অনুষ্ঠানসংলগ্ন বিভিন্ন অংশে বসানো হয়েছে বড় প্রজেক্টর। বর্ধিত সভা উপলক্ষে আমরা বিএনপি পরিবার ‘আস্থা’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে।
সভার প্রথমে রুদ্ধদ্বার কর্ম অধিবেশনে তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য থাকবে। পরে সমাপনীতে তারেক রহমান নীতিনির্ধারণীয় বক্তব্য দেবেন। বিএনপির দপ্তর থেকে জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুরে খাবার, বিকেলে স্ন্যাকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থাকবে চা-কফির ব্যবস্থা।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ‘লা মেরিডিয়ানে’ বর্ধিত কমিটির সভা হয়। সেখানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর চার দিন পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি জেলে যান বিএনপি চেয়ারপারসন।
গতকাল বিকেলে বর্ধিত সভার কাজকর্ম পরিদর্শন শেষে বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। আমন্ত্রিত নেতাদের খাওয়া-দাওয়া, ডাইনিং, স্যানিটেশন, চিকিৎসাসেবা প্রভৃতি বিষয়ে যারা দায়িত্বে আছেন তারা তদারিক করছেন। মেডিকেল টিম থাকবে যেখানে সর্বাক্ষণিক তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। একটি ফিল্ড হাসপাতাল থাকবে যেখানে কিছু বেড থাকবে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য।’
বর্ধিত সভা থেকে কী বার্তা আসতে পারে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘যে নেতারা বর্ধিত সভায় আসবেন, যাদের ডাকা হয়েছে তাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই তারা কী চান, তার আলোকে শীর্ষ নেতা দিকনির্দেশনা দেবেন। এত বড় আন্দোলন গেল, আরও নানা বিষয় আছে, কী ধরনের প্রস্তাবাবলি গ্রহণ করা যায় তাদের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সেটা আসবে।’
ব্যবস্থাপনা উপকমিটির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘মঞ্চ নির্মাণ হয়ে গেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন সেজন্য ইলেকট্রনিক সব পর্দার নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মীর সরাফত আলী সপু, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ।
বর্ধিত সভা সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য ছয়টি উপকমিটি করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ব্যবস্থাপনা কমিটি (আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি), অভ্যর্থনা কমিটি (আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেল), আপ্যায়ন কমিটি (আহ্বায়ক এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত), শৃঙ্খলা কমিটি (আহ্বায়ক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু), মিডিয়া কমিটি (আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল) এবং চিকিৎসাসেবা কমিটি (আহ্বায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম)।
কেন্দ্রীয় দপ্তর জানায়, আমন্ত্রিত অতিথিরা নয়া পল্টনের কার্যালয় থেকে অধিকাংশই ছবিযুক্ত আইডি কার্ড নিয়ে গেছেন।
