বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় কমেছে

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:০৬ এএম

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-২০২৪ থেকে জানুয়ারি-২০২৫) বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় উভয়ই আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। তবে এ সময়ে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। আর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের এই চাপ আগামী বছরগুলোয় বাড়তে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিগত আওয়ামী লীগ সরকার মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিদেশ থেকে অনেক অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। ওইসব ঋণের অধিকাংশেরই গ্রেস পিরিয়ড শেষের দিকে। ফলে সেগুলোর রি-পেমেন্টে শুরু হয়েছে। এ কারণে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। সরকারের বৈদেশিক ঋণের হিসাব সংরক্ষণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গতকাল সংস্থাটি বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ব্যাপক মাত্রায় কমে গেছে। এ সময় নতুন করে ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২০৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের। আর অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমান। সর্বমোট ২৩৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রতিশ্রুতি তিন ভাগের এক ভাগ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৬৭৪ কোটি ডলারের। আর অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের। মোট ৭১৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এদিকে ঋণ ও অনুদানের ছাড়ও কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশে অনুদান এসেছে ২৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর ঋণ এসেছে ৩৬৬ কোটি ডলার। দুটো মিলে অর্থছাড় হয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলারের সমান। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ ও অনুদান মিলে ছাড় হয়েছিল ৪৩৯ কোটি ডলার।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। আবার গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখে। এসব কারণে ঋণছাড় কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণছাড় বাড়লে আমাদের রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু অন্যদিকে এটি আমাদের ঋণের চাপ বাড়াতে থাকে, যা দেশের সাধারণ মানুষকেই পরিশোধ করতে হবে। তা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করে অগ্রসর হচ্ছে। এটি ইতিবাচক। কারণ আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় ঋণের কারণে এরই মধ্যে দেশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপে আছে।’

এদিকে ঋণ ও অনুদান ছাড় কমলেও অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পরিশোধ বেড়েছে। এ সময় সরকার সুদ পরিশোধ করেছে ৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর আসল পরিশোধ করেছে ১৫৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। মোট পরিশোধ হয়েছে ২৪১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সুদ পরিশোধ হয়েছিল ৭৬ কোটি ডলার। আর আসল পরিশোধ হয়েছিল ১০৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পরিশোধ করতে হয়েছিল ২০ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। এ বছরের একই সময়ে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫ কোটি টাকায়।

দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে অর্থায়নের একটি বড় উৎস হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ। ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক বড় ঋণ নিতে থাকে। ফলে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দ্রুততার সঙ্গে বাড়তে থাকে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক দায়দেনার পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। ঋণ বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের ঋণ সিলিং কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত