বিএনপির বর্ধিত সভায় দলের দুই শীর্ষ নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের নিজ নিজ বক্তৃতায় বলেছেন, ‘একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আকাক্সক্ষা যখন প্রবল তখন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমনে সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, কিছু কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’ আর নিজেদের ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে দলের তৃণমূল নেতারা বলেছেন, দল ও নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে; এ অবস্থায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য ধরে রাখা প্রয়োজন। তারা বলেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে গেলেও বিএনপির বিরুদ্ধে নানাবিধ চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্ত মোকাবিলায় সজাগ থেকে গুটিকয়েক নেতাকর্মীর অপকর্ম রোধ করতে পরামর্শ তাদের। জামায়াতের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখারও আহ্বান জানান নেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জাতীয় সংসদের এলডি হল প্রাঙ্গণে চলে বিএনপির কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা। এতে সভাপতির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি।’ এ প্রশ্নে সৃষ্ট নানা সংশয়ের প্রেক্ষিতে নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সরকারের প্রতি আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও এ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য-মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো নিজেদের কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের নামে মহল বিশেষ কেন দেশের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে চাইছে, এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়। জনগণ মনে করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হলে তা হবে পলাতক- স্বৈরাচারের দোসরদের সারা দেশে পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া, যা হবে গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাবিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।’ আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে বলেও জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণা করুক বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এখন পর্যন্ত ১৬-১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সব নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে দলগুলোকে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। সুতরাং প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।’
জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ধীরে ধীরে আপনারা নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিন। যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখুন। বিএনপি শুধুমাত্র জনগণের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় যে সরকার দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে জনগণের সমর্থন চাই, চাই সবার সহযোগিতা।’
তিনি বলেন, ‘যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমাকে বাধ্য হয়েই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে, নিতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণœ হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি প্রশ্রয় দেবে না।’
বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বসেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এজেডএম জাহিদ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তারেক রহমানের বক্তব্যের আগে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছি। শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছি। এখন অপেক্ষা করছি জনগণের যে আশা আকাক্সক্ষা, গণতন্ত্রের জন্য। এই গণতন্ত্রকে বিঘিœত করতে একটি গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে চক্রান্ত শুরু করেছে। শেখ হাসিনা বিদেশে গিয়ে সেই চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে দেখছি, এখনো সেই লক্ষ্যে আমরা সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাচ্ছি না।’
এর আগে সকাল ১১টায় ‘সুদৃঢ় ঐক্য রুখে দিতে পারে সব ষড়যন্ত্র’ সেøাগানে সংসদ ভবনের এলডি হলের মাঠে বিএনপির বর্ধিত সভা শুরু হয়। সারা দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতা এতে অংশ নেন। সভার শুরুতে বিগত ১৬ বছরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত এবং দলের প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির পর সারা দেশ থেকে আগত নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। প্রায় সাত বছর পর বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায় থেকে আগত নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে তাদের মনের কথা তুলে ধরেন।
লটারির মাধ্যমে বক্তব্যের সুযোগ পাওয়া নেতাদের বক্তব্যে বেশিরভাগ হাইব্রিড নেতাকর্মীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়া, কমিটিতে সেসব নেতাদের গুরুত্ব পাওয়া, বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ব্যবহার করে কতিপয় নেতাকর্মীদের দলের আদর্শবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর অপতৎপরতা বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি যেমন ছিল তেমনি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিরোধিতাও করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের কোনো কোনো নেতার আঁতাতের অভিযোগও উঠে আসে এ সময়।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার খানম বলেন, ‘চিরস্থায়ীভাবে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ধিত সভা নয়, বিভাগীয় পর্যায়ের সম্মেলন করতে হবে। সেখানে তৃণমূলের কষ্টের কথা জানতে হবে, প্রতিকার করতে হবে। সারা দেশে বিএনপি কার্যালয়ভিত্তিক রাজনীতি করলেও এখন তাদের প্রতিপক্ষ একটি দল (জামায়াত) মসজিদভিত্তিক রাজনীতি করছে। এই মসজিদভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকবে কি না তা এই অন্তর্বর্তী সরকারকে ভেবে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ও দলটি বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক গুজব, অপপ্রচার করছে। সেটার জন্য দলকে কাউন্টার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে বিগত দিনে যারা সক্রিয় ছিলেন না, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন তাদের বিষয়ে দল থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। যদি এসব নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দলকে এগিয়ে নিতে হলে ত্যাগীরা পিছিয়ে থাকবে না, মৌসুমি নেতারা এগিয়ে যাবে না এমন কৌশলে এগোতে হবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের গঠিত কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে তার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘ইউপি মেম্বরদের ভোটে চেয়ারম্যান নয়, জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান না হলে জনগণের কাছে ওই সব জনপ্রতিনিধি দায়ভার নেবে না। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে না।’
খুলনা সদর থানা বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘একটি গুপ্ত সংগঠন (শিবির) সারা দেশে মব সৃষ্টি করছে, অরাজকতা করছে, বিএনপিকে নিয়ে গুজব সৃষ্টি করছে। এই দলটি বিগত ১৬ বছর বিএনপির সঙ্গে থাকলেও এখন তারা সুবিধাজনক সময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতিষ্ঠা করছে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আঁতাত করছে।’
টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকার নেতা জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি বিএনপিকে ধ্বংসই করতে পারত তাহলে আজ বিজয় আসত না। বিগত দিনে যে আওয়ামী লীগ এত অত্যাচার করেছে এখন সেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলের কতিপয় নেতাকর্মী প্রশ্রয় দিচ্ছেন, মদদ দিচ্ছেন। যারা গত ১৫ বছর ছিল না তারা এখন আমাদের ঘরে ঢুকে ঐক্য বিনষ্ট করতে চাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে একেবারে তৃণমূলে কোন্দল বাড়ছে। এটা যাতে সামনে না বাড়ে এজন্য দলের হাইকমান্ড থেকে এখনই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। বিগত দিনের সুবিধাভোগীরা যাতে মনোনয়ন না পায় সেটা হাইকমান্ডকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকার নেতা রবিউল আলম বলেন,‘ ৫ আগস্টের পর এখন অনেক নেতাকর্মী দেখা যাচ্ছে। সুবিধাভোগী নেতাকর্মীদের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে আমরাই এখন দলে সংখ্যালঘু।’
হবিগঞ্জের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত দিনে যারা গর্তে লুকিয়ে ছিল, তাদের এখন আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। এই সুবিধাভোগীদের কাছে ত্যাগীরা হারিয়ে গেলে পুরো বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দলের দুর্দিনে তৃণমূল বেইমানি করেনি। যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। অথচ এক শ্রেণির মৌসুমি নেতা সুবিধা নিয়ে মোটাতাজা হয়েছে। আর ত্যাগীরা হয়েছেন স্বাস্থ্যহীন। এই ত্যাগীরা দলের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে।’
সৈয়দপুর জেলা বিএনপি নেতা আলমগীর মাতুব্বর বলেন, ‘যারা আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে দিয়েছে। তারাই আজ বিএনপির প্রথম কাতারে। এই হাইব্রিড যেন না ঢোকে।’ জামালপুর জেলা বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান সাজু বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে যারা আন্দোলন করেছে তারা আমাদেরই সন্তান। তাই ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়া উচিত।’ জামালপুর জেলা বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম পিন্টু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নব্য বিএনপিরা মসজিদ ও মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে ঝগড়া করে। এগুলো থেকে সরে আসতে হবে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি নেতা জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, ‘আপনি (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) নিজস্ব সেল ও জরিপের মাধ্যমে মনোনয়ন দেবেন। তাকেই মনোনয়ন দেবেন যার অবস্থান সবচেয়ে ভালো হবে।’ যশোর জেলা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রুপিং দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিতে হবে।’ দিনাজপুর জেলা বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম মিলন বলেন, ‘ত্যাগীদের কোণঠাসা ও বহিষ্কার করা হচ্ছে। পদ স্থগিত করা হচ্ছে। তাদের পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃণমূলকে জাগাতে হবে, হাইব্রিডদের ঠেকাতে হবে।’ নীলফামারী জেলা বিএনপির নেতা মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘দলের ভেতরে কিছু সুবিধাবাদী দেখতে পাচ্ছি। ত্যাগীদের কথা যাতে আমরা ভুলে না যাই।’ বর্ধিত সভার মতো জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সভা করারও পরামর্শ দেন কেউ কেউ।
রুদ্ধদ্বার এই অধিবেশনে তৃণমূল নেতাদের পর জেলা, নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমানের নীতিনির্ধারণী বক্তব্যের মাধ্যমে বর্ধিত সভা শেষ হয়।
