চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে নেতৃত্ব ছাড়লেন জস বাটলার। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করাচিতে হতে যাওয়া ম্যাচটিই হবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ।
ইংল্যান্ড ইতোমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে যাওয়ার পর তাদের শেষ ম্যাচের ফলাফল কোনো পার্থক্য তৈরি করবে না। গত বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ও ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ব্যর্থতার পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার কারণে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েন বাটলার।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, এটি আমার জন্য এবং দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। আশা করি, নতুন কেউ এসে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মিলে দলকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে।’
ইংল্যান্ডের সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক নতুন অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোচ ম্যাককালাম জানিয়েছেন, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন বাটলার। তিনি বলেছেন, ‘আমার প্রধান অনুভূতি এখন দুঃখ ও হতাশা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাবে। আমি আবার ক্রিকেট উপভোগ করতে চাই এবং উপলব্ধি করতে চাই, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া কতটা গর্বের বিষয় ছিল।’
২০২২ সালে ইয়ন মরগানের জায়গায় অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন বাটলার। সে বছরই তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড জিতেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে এরপর থেকেই পারফরম্যান্সে ধস নামে ইংল্যান্ডের। সর্বশেষ তিনটি আইসিসি ইভেন্ট—২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি—সবকটিতেই ব্যর্থতা সঙ্গী হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৮ রানে হারের পর থেকেই বাটলারের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভাবছিলাম, আমি সমস্যার অংশ নাকি সমাধানের? এই টুর্নামেন্টটি আমার অধিনায়কত্বের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু দুই ম্যাচে হারের পর স্পষ্ট হয়ে গেছে, আমি অধিনায়ক হিসেবে পথের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছি। এটি হতাশার, তবে বাস্তবতা মেনে নেওয়া উচিত।’
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড মাত্র তিনটি ম্যাচ জিততে পেরেছিল এবং প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিয়েছিল। এরপর থেকেই দলটি ছন্দহীন। শেষ ২৫ ওয়ানডের মধ্যে ১৮টিতেই হেরেছে ইংল্যান্ড। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ছন্দে ছিলেন না বাটলার। গত ২১ ইনিংসে তার গড় ছিল মাত্র ২৬.৪০, স্ট্রাইক রেট ১০০-এর সামান্য বেশি। অথচ ক্যারিয়ারের প্রথম ভাগে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৫.৯৭। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুটি ম্যাচেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, করেছেন যথাক্রমে ২৩ ও ৩৮ রান।
বাটলারের নেতৃত্ব ছাড়ার পর কে ইংল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নাম হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। কোচ ম্যাককালাম বলেছেন, ‘আমরা সবাই দেখেছি, জস অধিনায়ক হিসেবে কী পরিমাণ সময় ও শ্রম দিয়েছেন। অনেকে হয়তো ভুলে যায়, মাত্র দুই বছর আগেই তিনি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। তার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে নিঃস্বার্থ এবং তিনি এখনো দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা নিশ্চিত, অধিনায়কত্বের চাপমুক্ত হয়ে তিনি আবারও নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারবেন।’
বৃষ্টিতে বন্ধ অস্ট্রেলিয়া-আফগান ম্যাচ, পরিত্যাক্ত হলে যেমন হবে সমীকরণ
নেইমার ৬০ গোল না করলে নাম বদলানোর বাজি ধরেছিলেন গার্দিওলা