মাদারীপুর

মসজিদে মুসল্লি ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম

মাদারীপুরের রাজৈরে মসজিদে নামাজ পড়ার মুসল্লি ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বাসুদেবপুরের শেখ বাড়ি ও মুন্সী বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাবলু শেখ ও চুন্নু মুন্সী দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে চুন্নুর ভাতিজা সাইদুল মুন্সী (১৮) ও বাবলু গ্রুপের রয়েজ শেখের (২৫) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য আজ সকালে দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে শালিসে বসেন। এসময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। 
গুরুতর আহত মজিবর মুন্সীকে (৫৫) ঢাকা মেডিকেলে ও বেলাল শেখকে (৪৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে বক্কর মুন্সী (২০), গিয়াস শেখ (৩৫), তানভীর শেখ (১৮), সাইদুল মুন্সী (১৮), বাবুল মুন্সী ও দৌলা রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকি আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এ ব্যাপারে বাবলু শেখ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে হুমকি দিয়েছে চুন্নু। এ নিয়ে মারামারি হয়েছে। শালিসে উসকানি দিয়া এই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে।

চুন্নু মুন্সীর ছেলে কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে আমার ফুফু নতুন বিল্ডিং করছেন। সেই নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে প্রতিদিন মাদকসেবন করতে যায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি টিটু ও তার দুই সহকারী ইসলাইল শেখ ও ইব্রাহিম শেখ। এজন্য আমার বাবা তাদের বিল্ডিংয়ে উঠতে নিষেধ করলে তারা বেয়াদবি করে। এ ঘটনা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি সবাই জানেন। সেজন্য শালিস বসানো হয়েছিল। এদিকে মীমাংসা হলেও বাড়িতে তারা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, পান্নু মুন্সী ও রোকন উদ্দিন শেখ সম্পর্কে মামা-ভাগনে। বৃহস্পতিবার নান্নু মুন্সী ও পান্নু মুন্সী দুই ভাইয়ের মধ্যে পান্নুকে ভালো বলে রোকন উদ্দিন। এ নিয়ে নান্নুর ছেলে সাইদুল ও রোকন উদ্দিনের ছেলে রয়েজের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। সেই ঘটনা মীমাংসার জন্য শালিস বসেছিল। সেই শালিসের মধ্যেই দুই পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষ বাধায়। দুই পক্ষই খারাপ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজৈর থানার এসআই শেখ নুরুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষ আলাদা আলাদা কথা বললেও জানা গেছে মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আগে তারা একসঙ্গে এক মসজিদে নামাজ পড়তো। কিন্তু এখন আলাদা মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে নামাজ পড়ে। এক মসজিদ এলাকা থেকে আরেক মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ায় মুসল্লিদের নিষেধ করায় দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এরপরও কোনো ঝামেলা হলে উভয়পক্ষকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত