উত্তপ্ত ১০ মিনিটের অসীম উত্তাপ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫৯ এএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশা করেছিলেন, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করেই হয়তো হোয়াইট হাউজ থেকে বের হবেন। আলোচনায় একটি খনিজসম্পদ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ারও কথা ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের ভবিষ্যতে বড় ধরনের অংশীদারত্ব দেবে। এই চুক্তি সরাসরি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দিলেও, এটি ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে জেলেনস্কির জন্য অপেক্ষা করছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। ট্রাম্প ও ভ্যান্সের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর কোনো কিছু অর্জন ছাড়াই হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হয় জেলেনস্কিকে। এরপররই ওই ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় বিশ্ব জুড়ে। পুরো ইউরোপ দাঁড়িয়ে গেছে ইউক্রেনের পাশে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের সম্পর্কের ওপর। সামনে কোনো পক্ষ ভুল ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিলে ওভাল অফিসের ১০ মিনিটের উত্তেজনার আঁচ দীর্ঘ সময় ধরেই পোহাতে হবে বিশ্বকে।

গতকাল বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে ওভাল অফিসের বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের সামনেই বাগবিতণ্ডায় জড়াস ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর জের ধরে জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউজ থেকে চলেও যেতে বলা হয় এবং পূর্বনির্ধারিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়।

ট্রাম্প কথা-কাটাকাটির সময় জেলেনস্কিকে কৃতজ্ঞ হওয়ার জন্য বলেন এবং একই সঙ্গে তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছেন’ বলে অভিযোগ করেন। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না।

বিবিসি বলছে, জেলেনস্কির এবারের ওয়াশিংটন সফরে ইউক্রেনের বিরল খনিজসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওভাল অফিসের বৈঠকটি বাগ্যুদ্ধে পরিণত হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আশা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করে হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন। এর মধ্যে খনিজ চুক্তিতে সই করবেন, যা তার দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অংশীদারত্ব দেবে এবং তিনি তার দেশের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য আরও বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তাকে চাপ দেওয়ার পর বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনেই নজিরবিহীন এক পরিস্থিতিতে পড়লেন জেলেনস্কি।

ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর শক্তিশালী সহযোগীর চাপ সত্ত্বেও পিছিয়ে গেলেন জেলেনস্কি। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলো যে বৈঠকে তিনি ‘অসম্মানজনক’ আচরণ করেছেন। এ ঘটনার পর ট্রাম্প ও তার যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আগেই তাকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত খনিজ চুক্তিও আর হলো না।

বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে দেখা যায়, ওভাল অফিসে আলোচনাটা আন্তরিকভাবেই শুরু হয়েছিল। আধা ঘণ্টা ধরে এভাবেই চলেছে। এরপর পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। জেডি ভ্যান্সের একটি কথার সূত্র ধরে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়াটাই হয়তো শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার পথ। আর সেটাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করছেন।’

জেলেনস্কি তখন কথা বলে ওঠেন। তিনি ২০১৯ সালে ব্যর্থ যুদ্ধবিরতি চুক্তিসহ তিন বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর কথা উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, ‘কেউ তাকে থামায়নি।’ জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আপনি কী ধরনের কূটনীতির কথা বলছেন জেডি? আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?’

ভ্যান্স তখন বলেন, তিনি সে ধরনের কূটনীতির কথা বলছেন, যা জেলেনস্কির দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবে।

এরপর দুপক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি অসম্মানজনক আচরণ করছেন এবং মার্কিন গণমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতিকে ঘোলা করছেন।

সামরিক বাহিনী ও বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভ্যান্স। জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘যুদ্ধের সময় প্রত্যেকেরই সমস্যা থাকে, এমনকি আপনাদেরও। কিন্তু আপনাদের কাছে একটা দারুণ সমুদ্র আছে। এখন এটা উপলব্ধি করতে পারবেন না, তবে আপনারা ভবিষ্যতে এটা বুঝতে পারবেন।’

এতক্ষণ পর্যন্ত বাগ্বিতণ্ডা জেলেনস্কি ও ভ্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও জেলেনস্কির এ কথা শুনে ট্রাম্প ক্ষেপে যান। কারণ, ওই কথার মধ্য দিয়ে জেলেনস্কি বোঝাতে চাচ্ছিলেন, যুদ্ধের আক্রমণকারী পক্ষকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে নৈতিক ঝামেলাগুলো ট্রাম্প বুঝতে পারছেন না।

সমালোচকরা বলে থাকেন, রাশিয়াকে নিয়ে ট্রাম্প ভুল হিসাবনিকাশ করেছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করে তিনি পুতিনকেই শক্তিশালী করে তোলার মতো ঝুঁকি নিচ্ছেন। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ ইউরোপকে দুর্বল করে দেবে এবং ইউক্রেন দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। আর সেই বার্তাগুলোই হয়তো দিতে চেয়েছেন জেলেনস্কি।

ট্রাম্প এ যুদ্ধকে দুই পক্ষের মধ্যকার এক ধরনের বাইনারি দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকেন। তিনি মনে করেন, এ যুদ্ধের দায় দুপক্ষেরই আছে।

তবে জেলেনস্কি এ ধরনের চিন্তাভাবনার পরিণাম বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। ওভাল অফিসের ওই আলোচনায় জেলেনস্কি সরাসরি ট্রাম্পকে বলেন, ‘রাশিয়াকে শান্ত করুন, তখন যুদ্ধ আপনার হাতে চলে আসবে।’

এতে ট্রাম্প আরও বেশি ক্ষেপে যান। উচ্চ স্বরে তিনি বলেন, ‘আমরা কী ভাবব না ভাবব, তা নিয়ে আমাদের বলতে আসবেন না। সেটা বলার মতো অবস্থানে আপনি নেই।’ ট্রাম্প আরও বলেন, জেলেনস্কি লাখ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের একপর্যায়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘যুদ্ধের একেবারে শুরু থেকে আমরা একা ছিলাম এবং আমরা কৃতজ্ঞ।’ এ কথায় ক্ষেপে যান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আপনারা একা ছিলেন না। আমরা এ স্টুপিড প্রেসিডেন্টের (সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন) মাধ্যমে আপনাদের ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার দিয়েছি।’

এরপর ভ্যান্স অভিযোগ করেন, গত বছর মার্কিন নির্বাচনের সময় জেলেনস্কি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে পেনসিলভানিয়ায় বাইডেনের নিজ শহর স্ক্রান্টনে জেলেনস্কির একটি যুদ্ধাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন ভ্যান্স। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান সদস্যরা জেলেনস্কির এই সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেছিলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে জেলেনস্কি আসলে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যটিতে কমলা হ্যারিসের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন।

ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যকার আলোচনায় একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির তিক্ত বিভাজনগুলো প্রতিফলিত হতে থাকে।

ভ্যান্স জানতে চান, বৈঠক চলাকালে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ দিয়েছেন কি না।

জেলেনস্কি বলতে থাকেন, ‘দয়া করে, আপনি যদি মনে করেন যে আপনি যুদ্ধের বিষয়ে খুব উচ্চ স্বরে কথা বলবেন...,’ এ পর্যায়ে জেলেনস্কিকে থামিয়ে দেন ট্রাম্প। বিরক্ত চেহারা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি উচ্চ স্বরে কথা বলছেন না। আপনার দেশ বড় সমস্যায় পড়েছে। আপনি জিতছেন না, আপনি এটা জিততে পারছেন না। আমাদের কারণে এখান থেকে আপনার ভালোভাবে বের হয়ে আসার সুযোগ আছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এভাবে কাজ করাটা খুব কঠিন। এ চুক্তি করাটা কঠিন কাজ হয়ে পড়ছে। কারণ, মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট দুজনই জেলেনস্কিকে ভর্ৎসনা করেন। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, দুজনই জেলেনস্কির আচরণে ক্ষুব্ধ।

ভ্যান্স একপর্যায়ে দাবি করে বলেন, ‘শুধু ধন্যবাদটুকু দিন।’

জেলেনস্কি হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর ট্রাম্প তার নিজের মালিকানায় থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, যখন শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন ফিরে আসবেন। জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ওভাল অফিসকে ‘অপমান করেছেন’ বলেও লিখেছেন ট্রাম্প।

জেলেনস্কিও এ ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান সেখানে। পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার তিনি বলেন, প্রকাশ্যে যে বাদানুবাদ হলো, সেটা ঠিক ছিল না, তবে ট্রাম্প ও তার সম্পর্কের পুনরুদ্ধার সম্ভব।

তিনি লিখেছেন, এই সম্পর্ক শুধু দুজন প্রেসিডেন্টের মধ্যকার সম্পর্কের চেয়েও বেশি কিছু। আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ও আছে এখানে।

তবে হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র ক্যারোলাইন লিয়াভিট বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য অর্থ ব্যয় করতে করতে আমেরিকার মানুষ এখন ক্লান্ত।

তিনি (জেলনস্কি) যুদ্ধের বাস্তবতা স্বীকার করতে অস্বীকার করেছেন।

হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের লিয়াভিট বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলছে। তার দেশের মানুষ মরছে এবং যারা এতে অর্থ দিচ্ছে, সেই আমেরিকার মানুষ অর্থ দিতে দিতে ক্লান্ত। তিনি বলেন, ২০২২ সালে যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল, তার থেকে অনেকটাই ভিন্ন পরিস্থিতিতে আছেন জেলেনস্কি। তার হাতে কোনো কার্ড (বিকল্প) নেই। এগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে আছে। আগের প্রশাসনের চেয়ে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার ভিন্ন এবং তিনি যুদ্ধের অবসান চান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইউক্রেনের নেতার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, তার এগুলোর মধ্যে এসে দ্বন্দ্বে জড়ানোর দরকার নেই। আপনি যখন আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলতে শুরু করবেন এবং প্রেসিডেন্ট হলেন মধ্যস্থতাকারী, তিনি সারাজীবন এটা করেছেন।

রুবিও বলেন, আপনারা বুঝতে পারছেন যে জেলেনস্কি হয়তো শান্তি চুক্তি চান না। তিনি বলেছেন তিনি চান, কিন্তু সম্ভবত তিনি চান না।।

এদিকে দুই নেতার শুক্রবারের এ বৈঠক বিশ্ব জুড়ে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ, ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন, মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গার স্তুর, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শোফসহ অনেক বিশ^নেতাই অবস্থান নেন ট্রাম্প-জেলেনস্কির পক্ষে-বিপক্ষে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত