ঢালিউডের আলোচিত দুই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও পরীমণির মধ্যে দারুণ সম্পর্কই ছিল। তারা একে অন্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন, আবার অপুর প্রতিপক্ষ বুবলীর বিরুদ্ধেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অবস্থান নিয়েছিলেন পরীমণি, এমন খবরও মিডিয়াপাড়ায় ভেসে বেড়ায়।
অপু বিশ্বাস নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ঢালিউডে আমরা পাঁচ বোন, আমি বড়, পরীমণি মেঝো, তমা মির্জা সেজো, এরপর পূজা চেরী ও সবার ছোট দীঘি।’ তবে এর কিছুদিন পর পরীমণি তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝি না অপুদি সত্যি আমাকে ভালোবাসে কি না!’
আর এবার যা হলো, তাতে আর বুঝতে বাকি নেই অপু বিশ্বাস আর পরীমণির সম্পর্কটা আগের মতো নেই। শুধু তাই নয়, সম্পর্কটা যে উল্টো তিক্ততায় পরিণত হয়েছে তার আঁচ পাওয়া গেছে পরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসে।
শনিবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই পরীমণি লিখেছেন, ‘অ্যানাউন্সমেন্ট বোলে! তাও ঈদ ক্যাম্পেইন অ্যানাউন্সমেন্ট!! বাবাগো, একটা চায়না ফোন দিয়ে এখনকার পিচ্চি পোলাপান দিনে কয়েক’শ এর থেকে ভালো রিলস বানায় রেনডমলি! এক বরবাদ যে তোমাদের মতন পরগাছা উকুনদের তামাম জিন্দেগির অস্তিত্ব নিয়ে লারাবাড়া করে দিল সেটা আর বলতে ...।’
অনেকেই ভাবতে পারেন, এখানে তো কোথাও অপু বিশ্বাসের নাম নেই। তবে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুই নায়িকাকে অনুসরণ করেন তারা ঘটনাটি ঠিক ধরে ফেলেছেন। কারণ অপু বিশ্বাস গত শুক্রবার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তাতে ঘোষণা ছিল, ‘অ্যানাউন্সমেন্ট, ঈদ ক্যাম্পেইন কামিং টুনাইট’।
ঘোষণা অনুয়াযী অপুর ফেসবুকে রাতে একটি রিলস ভিডিও প্রকাশ পায়। তাতে অপুকে সাদা আনারকলিতে লাস্যময়ী হিসেবে তুলে ধরা হয়। কেউ কেউ এই ভিডিওর প্রশংসাও করেন, আবার কেউ কেউ এতে পাঞ্জাবি গান ব্যবহারের সমালোচনা করেন।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই সবাই বুঝে গেছেন, পরীর স্ট্যাটাসটি কাকে নিয়ে। পরীর পোস্টে অনেকেই লিখেছেন, অপুকে খোঁজ দিলেন পরী।
সম্পর্ক যে শুধু অপু-পরীর মধ্যে খারাপ হয়েছে তা নয়। আরও একটি দিক আছে। কারণ অপুর এই নতুন ক্যাম্পেইন হলো কিবরিয়া বাই রাতুল নামের একটি পোশাক লাইনের। আর এটির স্বত্বাধিকারী হলেন গত কয়েক বছরে পরীর আশপাশে থাকা কিবরিয়া ও রাতুলের। পরীকেও এই পোশাক লাইনের অনেক পোশাক পরতে দেখা গেছে। সেই লাইনের ঈদ ক্যাম্পেইনকে চায়নিজ ফোনের রিল ভিডিওর চেয়ে খারাপ বলা মানে, পরীর সঙ্গে যে কিবরিয়া-রাতুলেরও সম্পর্কটা আগের মতো নেই সেই ইঙ্গিত দেয়।
পরী শুধু অপুর কাজ নিয়েই সমালোচনা করেননি। তার স্ট্যাটাসের পরের অংশে ছিল অপুর ব্যক্তি জীবন নিয়ে কটূক্তি। পরী লিখেছেন, ‘অহংকার আর আত্ম-অহংকারের তফাৎ বুঝতে চেষ্টা কর।’
