ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওয়াদা করিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা জাতির কাছে ওয়াদা দিয়েছি আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চাই। আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নেই। আমাদের এজেন্টটা বাংলাদেশের এজেন্ডা দেশের মানুষের এজেন্ডা। আমাদের এজেন্ডা হচ্ছে একটা সুস্থ সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের এজেন্ডা।
আজ রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় এ কথা বলেন সিইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বাঙালি এখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। যদি কোনো কারণে এটা বাস্তবায়ন না হয় তাহলে বা কোনোক্রমে আমরা যদি পিছিয়ে যাই, তাহলে কিন্তু যারা আহত বা নিহত হলো তাদের অবদান তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারে নাই। এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসে গেছে। যেদিন আমরা ভোটটা দিতে পারব সেদিন পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে। ভোটটা শুধু এখন অধিকার হিসেবে দেখলে হবে না, এটা এখন নাগরিকের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আগে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের এত প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু, এখন মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেড়ে গেছে। আমি এখন যেখানে যাই সবাই আমাকে বলে যে সমস্ত মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের কাছে মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনেক। এটা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে যে, কিভাবে আমরা এই প্রত্যাশা পূরণ করব। এটা নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব না, এতে সবার সহযোগিতা লাগবে।
তিনি আরো বলেন, অনেকে বলেন বিভিন্ন দল তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান। আমি এটা ভিন্ন চোখে দেখি। এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। আমরা যদি ৩০টা দল থাকি সবাই এক রকম চিন্তা করব না। প্রত্যেক দলই তো আলাদা আলাদা পার্সপেক্টিভ আছ। যার যার দলের একটা স্বার্থ আছে। তো তাদের নিজে নিজে দৃষ্টিকোণ থেকে তারা বক্তব্য দিবে। That is the beauty of democracy. এটা আমরা কেন মানতে পারি না জানি না। এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
সিইসি বলেন, যখনই বিভিন্ন দল বিপরীতমুখী বক্তব্য দেয় এটি আমি আশাহত হই না। দিন শেষে দেখবে আমাদের রাজনীতিবিদ দেরও ভুল করে। একটা পর্যায়ে তারা ঘুরেফিরে আবার আসবে। এক সময় তারা একমত হবে। সেই বিশ্বাস আমার আছে।
তিনি বলেন, আমি সবার মুখে একটা জায়গায় ঐক্যমতো দেখেছি। এটার জন্য ঐক্যমত কমিশনের প্রয়োজন পড়ে নাই। এই বিষয়টা নিয়ে সবাই একমত যেখানে কোনো দ্বিমত দেওয়া ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি যে বলে আমি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই না। এটা কিন্তু কেউ বলে নাই। একজনও বলে নাই। যারাই আমাদের সাথে সভা করতে এসেছেন তারা সবাই বলেছেন যে আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন চাই। আবার পথে ঘাটে যাদের সঙ্গে দেখা হয় তারাও বলে। ফলে ১৮ কোটি মানুষও চায়।
ঐক্যমত কমিশনের কাছে প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ভাবি... যে ঐক্যমত কমিশন হয়েছে, উনারা যদি একটা কাজ করতেন যে যখন দলগুলোকে ডাকেন, তাদের যদি জিজ্ঞেস করত যে আপনারা কি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান? যদি চায় তাহলে তাদের কাছ থেকে সই নেওয়া উচিত যে নির্বাচন আচরণবিধির মানবেন আপনার দলের প্রার্থী যদি কোনো গোলমাল করে তাহলে দলীয়ভাবে অ্যাকশন নিবেন এবং সুন্দর একটা নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন।
এ রকম একটা ঐক্যমত্য যদি নেয়া হয়। লিখিতভাবে যদি নেওয়া হয় আচরণবিধি মানার জন্য একটা দলীয় চাপ থাকবে... তাহলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে বলে করি বলেও জানান তিনি।
১১৬ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
‘প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে গেলে অনিয়ম হতেই পারে’
বাঁশখালীতে রিকশাচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা