নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দল

প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৩:২৫ এএম

বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রয়োজনীয়তা এ সময়ের অনিবার্য এক প্রপঞ্চ। কেননা স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর কর্তৃত্ববাদী ও নিজস্বতার বয়ান রাষ্ট্রকে কোনোভাবেই একটি জনরাষ্ট্র হয়ে উঠতে দেয়নি। বিশেষ করে দ্বিতীয় প্রজন্মের আওয়ামী লীগের বিগত পনেরো বছরের ‘নন-পার্টি পলিটিক্যাল সিস্টেম’ তথা রাজনীতির বিরাজনীতিকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলস্বরূপ অকার্যকর একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয় বাংলাদেশ। সংবিধানের একব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামোয় ভর করে দুঃশাসনের এক কর্তৃত্ববাদী রাজত্ব তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ। বলাই বাহুল্য, জুলাই জনঅভ্যুত্থান কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনার দুঃশাসন থেকে মুক্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে। যে দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে শেষ পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আস্থা রাখেনি দেশের আপামর মানুষ। বরং আস্থা রেখেছে তরুণ ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে। যে নেতৃত্ব শুধু শেখ হাসিনার দুঃশাসন থেকে মুক্তিতেই থেমে থাকেনি, একই সঙ্গে সম্মিলিত দাবি করেছে, সাংবিধানিক একব্যক্তিকেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের। এই লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বের প্রভাবে গঠিত হয়েছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রণয়ন করছে রাষ্ট্র সংস্কারের যাবতীয় জনবান্ধব সুপারিশ। এরই মধ্যে জুলাই জনঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বিশেষ করে ছাত্র-যুবরা নিজেদের প্রকাশ করেছে একটি রাজনৈতিক দলের অবয়বে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে আত্মপ্রকাশ করে ছাত্র-যুবদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। ঘোষণা করেছে পরিবারতন্ত্রের বাইরে গিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার। যাকে তারা বলছেন ‘বাংলাদেশ পন্থা’। অঙ্গীকার করেছে রাষ্ট্রের যাবতীয় জনবিরুদ্ধতার অবসান ঘটিয়ে কাক্সিক্ষত সংস্কার করার মধ্য দিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের। যা আজ অনিবার্য এক প্রপঞ্চে পরিণত হয়েছে বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।  

নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অনিবার্যতা কেন

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ভূখণ্ডের মানুষ নিজেদের মতো করে একটি রাষ্ট্রনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছে অনেকবার। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সেই গড়ে তুলবার প্রয়াসকে কোনো না কোনো উপায়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে আপসের টেবিলে। তা সে সাতচল্লিশের বাংলা ভাগই বলি আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরুদ্ধ সংগ্রাম এবং সবশেষ ছত্রিশে জুলাই। প্রতিবারই মানুষ আন্দোলনে নেমেছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরই। তারা সহ্য করেছে। বরাবরই দুবেলা দুমুঠ খেয়েপরে বেঁচে থাকাটাকেই নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু ন্যূনতম সেই চাওয়াতেও হানা দিয়েছে দুর্বৃত্ত ধনিক গোষ্ঠী। আর সেই জনগণের ওপর ধনিক গোষ্ঠীর পক্ষের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাপিয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই মতোই পরিচালনা করা হয়েছে রাষ্ট্রকাঠামো। রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মকানুন তথা শাসনতন্ত্রে যা কিছু লেখা হয়েছে তার প্রায় প্রতি ছত্রেই জায়গা পেয়েছে জনবিরুদ্ধতা। তাতে নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে সাধারণের খাদ্য, বস্ত্র, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের অধিকার। জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নামে শর্তাধীন করা হয়েছে সাধারণের বাক, প্রতিবাদ ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা।

কথা রাখেনি রাজনৈতিক দলগুলো

ব্রিটিশদের দুইশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াইয়ে গোটা ভারতবর্ষের মানুষ কমবেশি অংশ নিলেও এক্ষেত্রে বাংলা এবং পাঞ্জাব ছিল সবার থেকে এগিয়ে। আত্মত্যাগের মাত্রাতেও এগিয়ে এই দুই রাজ্যের মানুষ। স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশগ্রহণ আর আত্মত্যাগের ফল হিসেবে ব্রিটিশদের কাঁচির শিকারও হতে হয় এই দুই রাজ্যকে। ইতিহাস আর পুস্তকে ভারত ভাগের কথা লেখা হলেও মূলত ভাগ করে দেওয়া হয় বাংলা ও পাঞ্জাবকে। আর সেই কাঁচি চালানোর ধরনটা ছিল এতটাই নির্মম ও নিষ্ঠুর যে, তার পরিণতি এখনো রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে এই দুই রাজ্যের মানুষকে। আর এমনিতর নিষ্ঠুর কর্মযজ্ঞটি করা হয়েছে সাধারণের সংগ্রামকে পাশ কাটিয়ে আলোচনা তথা আপসের টেবিলে। যেখানে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিল ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। কেননা ভারতের মানুষ আস্থা রেখেছিল, বিশ্বাস করেছিল, দায়িত্ব দিয়েছিল তাদের। কিন্তু এসবের কোনোটাতেই নিজেকে স্থির রাখেনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তৎকালীন নেতৃত্ব। ফলস্বরূপ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সংক্ষুব্ধ নেতৃত্ব বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার প্রতিশ্রুতিতে ভারতের রাজনৈতিক পরিম-লে আবির্ভাব ঘটে পাকিস্তান মুসলিম লীগের। মুখ্যত দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের স্বার্থরক্ষার প্রত্যয় নিয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ (এআইএমএল) নামের দলটি গঠিত হয় ১৯০৬ সালে। একই সঙ্গে আন্তঃধর্মীয় ঐক্যের মাধ্যমে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার দাবিও করে আসছিল দলটি। পরে প্রধানত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের আপসকামিতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তান আন্দোলনের পথ বেছে নেয়। দাবি জানায়, ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার পর মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমির। কথিত ভারত ভাগের পর মুখ্যত কায়েদ-ই-আযমের নেতৃত্বে পাকিস্তান নামের আলাদা একটি রাষ্ট্রের সূচনা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর দলটির নতুন নাম হয় পাকিস্তান মুসলিম লীগ। মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার ধুয়া তুলে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা হলেও শুরু থেকেই পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতি রাজনৈতিক সংকল্প আর প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে পারেনি পাকিস্তান মুসলিম লীগের নেতৃত্ব। পশ্চিম অংশের রাষ্ট্রনৈতিক নেতৃত্বের আচরণে বাংলা ভাগের মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই পূর্ববঙ্গের মানুষ বুঝতে শুরু করে তারা প্রতারিত হয়েছে। শাসকদের শাসনতান্ত্রিক এই প্রতারণা ক্রমেই রূপ নেয় নিপীড়ন, নির্যাতন, বঞ্চনা আর শোষণে। প্রতিবাদ, সংক্ষোভ আর সংগ্রামে ঋদ্ধ হতে থাকে পূর্ববঙ্গের মানুষ। পূর্ববঙ্গের মানুষের এমনিতর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সংগ্রামে সমর্থন আর তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবতীয় জনবিরুদ্ধতার প্রতিকারের দাবিতে পাকিস্তান মুসলিম লীগের জঠর থেকে জন্ম হয় পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের। যদিও পরে পরিস্থিতির চাপে বাদ দেওয়া হয় ‘মুসলিম’ শব্দটি। পরিচিতি পায় পাকিস্তান আওয়ামী লীগ হিসেবে। পশ্চিমের রাষ্ট্রনৈতিক নেতৃত্বের ধর্মাশ্রিত শাসনপদ্ধতির প্রতি এই ভূখ-ের মানুষের অনাস্থা আর বাঙালি জাতিয়তাবাদকে পুঁজি করে স্বাধিকার থেকে স্বায়ত্তশাসন, সেই থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা সবক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয় দলটি। কিন্তু এই ভূখ-ের আপামর মানুষের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে অর্জিত স্বাধীনতাকে একচ্ছত্র মালিকানায় নিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। শুরু হয় রাষ্ট্রের ছত্রচ্ছায়ায় অপরায়নের বয়ান নির্মাণের অপপ্রয়াস।

স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক দলের জন্ম যেভাবে

রাষ্ট্র পরিচালনায় আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র সাংবিধানিক কর্তৃত্ব আর স্বেচ্ছারিতার প্রতিবাদে এই দলটির ভেতর থেকে বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। সত্তর দশকের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন আর সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থনে দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায় দলটি। কিন্তু রাষ্ট্রের অকথ্য দমন-পীড়ন ও নিজেদের নেতৃত্বের বিপ্লবী রোমান্টিকতা আর সমন্বয়হীনতায় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই জনঅনাস্থায় পড়তে হয় জাসদকে। এরপর সমরশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় গঠিত হয় সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং পতিত স্বৈরাচার আরেক সেনাশাসক এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এই দুটো দলের শীর্ষ নেতৃত্বই প্রথমে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। পরে রাষ্ট্রক্ষমতার জোর আর জনগণের করের টাকার অপব্যবহার করার মাধ্যমে গঠন করে রাজনৈতিক দল।

রাজনীতির বিরাজনীতিকরণ

বলা বাহুল্য, ‘কিংস পার্টি’ বৈশিষ্ট্যের রাজনৈতিক দলগুলোই বাংলাদেশ নামীয় রাষ্ট্রটি পরিচালনা করেছে পঁচাত্তর থেকে নব্বই পর্যন্ত। যা কখনো প্রত্যক্ষ সেনাশাসনে আবার কখনো বা সেনা ছদ্মাবরণে কথিত সরকারি ভোটে নির্বাচিতদের শাসনে। যার সুবাদে রাষ্ট্র হয়েছে আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী। অকার্যকর করা হয়েছে নির্বাচনব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিচালন প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনিতর উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সমৃদ্ধ জায়গা করে নিয়েছে ‘নন পার্টি পলিটিক্যাল সিস্টেম’ তথা ‘অদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা’। শুধু তাই নয়, একব্যক্তিকেন্দ্রিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রকাঠামোয় এমনিতর ‘অদলীয় রাজনৈতিক পদ্ধতি’ খুব সহজেই অস্বীকার করতে পেরেছে জনদাবি ও জনআকাক্সক্ষা। যা কিনা একটি রাজনৈতিক দলের জনমুখী হয়ে ওঠার প্রথম শর্ত। তবে রাজনীতির এমনিতর জনবিচ্ছিন্নতা আর রাজনীতিহীনতার সংস্কৃতি সব থেকে বেশি জোরালো হয় সেনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত ওয়ান ইলেভেন নামীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময়ে। ‘অদলীয় রাজনৈতিক পদ্ধতি’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ‘মাইনাস টু নামের বিশেষ প্রকল্প’ হিসেবে নেওয়া হয় এই সময়েই। মাইনাস টু থেকে বাঁচতে গিয়ে ‘অদলীয় রাজনৈতিক পদ্ধতি’ বাস্তবায়নের অংশীজন হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগ। রাজনীতির এই বিরাজনীতিকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে দলটি। এক্ষেত্রে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। জুলাই জনঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে ঠিকই; কিন্তু একব্যক্তিকেন্দ্রিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রকাঠামোটা রয়ে গেছে আগের মতোই। জুলাই জনঅভ্যুত্থান স্বীকৃত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়নি। তাই জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে দেশের আপামর মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এই পরিবর্তনের প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী। সংগত কারণেই জুলাই জনঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র-যুবদের নতুন রাজনৈতিক দলটিকেও এগোতে হবে প্রচলিত ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নানা মাত্রার উপলব্ধির মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে জাতির কাছে প্রতিশ্রুত রাষ্ট্র সংস্কারের জনবান্ধব কার্যক্রমকে। এই পথচলায় কখনো করতে হবে সমঝোতা, কখনো হয়তো পরিস্থিতি গড়াবে বিরোধাত্মক পর্যায়ে। কবি কানন ত্রিপুরারির কলমেই উচ্চারণ করতে চাই... নতুনের ধ্বনি শুনিতে চায় এ প্রাণ,/বিরহবেদনা মুছে যাক যত আছে।/পুরাতন সুরে শুনেছি যত গান,/ শুনবো না আর, শুনবো নতুনের কাছে!

লেখক: সাংবাদিক ও সদস্য, রাষ্ট্রচিন্তা

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত