মাত্র পাঁচ বছর বয়সে হারিয়েছেন বাবা। মা ও বড় দুই ভাইকে নিয়ে বেড়ে উঠেছে তার শৈশব। জীবন দেখিয়েছে বাস্তবতা, শিখেছেন খুব অল্পবয়সেই। তাই হয়তো মাস্টার্সের মৌখিক পরীক্ষার দিনই সহকারী জজ হয়েছেন নাহিদ হাসান জয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ১৭তম জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। মেরিট তালিকায় তার অবস্থান ৩৪তম।
২০২৪ সালে অনার্স শেষ হয় নাহিদ হাসান জয়ের। এরপরই স্বপ্নপূরণের পরীক্ষায় বসেন তিনি। ধাপে ধাপে পাস করেন প্রিলি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। শেষমেশ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১০২ জনের চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম দেখতে পান তিনি। মাস্টার্সের মৌখিক পরীক্ষার দিনই তার সহকারী জজ হওয়ার খবরে আনন্দ বয়ে যায় আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
নাটোর জেলার লালপুর থানার অর্ন্তগত ধনঞ্জয়পাড়া গ্রামে জন্ম নাহিদ হাসান জয়ের। বাবা মৃত সরকার জালাল উদ্দীন। মায়ের নাম সালমা আহমেদ। ২০০৫ সালে শৈশবেই মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এরপর করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ থেকে। এরপর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগে।
মাস্টার্সের মৌখিক পরীক্ষার দিনই জজ হওয়া নিয়ে নাহিদ হাসান জয় সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। দেশ রুপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে (২০১৮-২০১৯) সেশনে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তির পর থেকেই ইচ্ছে ছিল একদিন বিচারক হব। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। পরিবারও আমাকে এই ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। তাদের অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলোও আমাকে উৎসাহিত করেছে। শিক্ষকদের জ্ঞানগর্ভ কথাগুলোও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’
বিচারক হতে চাওয়া জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে নাহিদ বলেন, ‘নতুনদের জন্য পরামর্শ হলো যাদের জুডিশিয়ারির ইচ্ছে আছে তাদের লেখার মান বাড়াতে হবে। খাতার পেজের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে কোয়ালিটি বৃদ্ধি করতে হবে। আল্লাহ তা’আলার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে পরিশ্রম করে যেতে হবে।’
