আইসিসি ইভেন্টে শিরোপার অপেক্ষায় থাকা দলের সংখ্যা কম নয়, কিন্তু দুটি দেশ এ তালিকায় নিঃসন্দেহে সবার ওপরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। সিনিয়র দলের হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকাই প্রথমবার হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চ্যাম্পিয়ন। সেটি সেই ১৯৯৮ সালের কথা। নিউজিল্যান্ডের সেই সুখস্মৃতিও নেই। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালুর পর প্রথম শিরোপা ঘরে নিলেও সাদা বলে বেশ কটি ফাইনাল খেলেও এখনো শিরোপা ছুঁতে পারেননি কিউই ক্রিকেটাররা। আজ এ দুটি দলই লাহোরে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।
২০১৭ সালে সবশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর এ দুটি দল ওয়ানডেতে নিজেদের মুখোমুখি হয়েছে ৮ বছরে সাকুল্যে ৩ বার। যার দুটি দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপে, আর শেষটি আসর শুরুর আগের ত্রিদেশীয় সিরিজে। লাহোরে এ দুই দল এবারই প্রথমবারের মতো পরস্পরের বিপক্ষে খেলতে নামছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে লাহোরের উইকেটে প্রথম ইনিংসে গড়ে রান এসেছে ৩১৬। প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতেই ৩০০ পেরিয়েছে রানের কোটা। কেবল একটি মাত্র ম্যাচে ব্যবহৃত উইকেটে ব্যাটিং করে ২৭৩ রান তোলে আফগানিস্তান, সেটিও ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর। তাই দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রানের পসরা বসবে সেটি বিনা সংকোচে বলে দেওয়া যায়।
ওয়ানডে ফরম্যাটে বিশ্বকাপ থেকেই দুর্দান্ত ধারাবাহিক দল নিউজিল্যান্ড। সবশেষ তিন বিশ্বকাপের দুটি ফাইনাল ও একটি সেমিফাইনাল খেলেছে কিউইরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে। সময়ের পালাক্রমে মিচেল স্যান্টনার এসেছেন দলটির অধিনায়কত্বে। তার অধীনে প্রথম আইসিসি ইভেন্টেও হেসেখেলে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ড। হোঁচট খাওয়া নিয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে একে বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে গতকাল তিনি বলেন, ‘নতুন কিছু করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমরা জানি, কাল একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে। এই মাঠ ও উইকেট সম্পর্কে আমাদের বেশ ধারণা আছে। এটা নকআউট ম্যাচ, কাল যে দলটি নিজেদের জাহির করতে পারবে তারাই উতরে যাবে। আশা করি সেই দলটি আমরাই হব।’
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামটি নিউজিল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠের মতোই। শেষ ৬ ম্যাচ ধরে এখানে অপরাজিত কিউইরা। এমন পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই স্যান্টনারদের উজ্জীবিত করবে। আর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা হলে কেন উইলিয়ামসন হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সবশেষ দুই ওয়ানডেতে অপরাজিত দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আজকের ম্যাচেও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তিনি হয়ে উঠবেন কিউই ব্যাটিংয়ের ভরসার স্তম্ভ।
গত দুবছর ধরে ফিঙ্গার স্পিনারদের বিপক্ষে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ভুগতে দেখা গেছে। সবগুলো দেশের মধ্যে এক্ষেত্রে তাদের গড় তৃতীয় সর্বনিম্ন। নিউজিল্যান্ডের দাপুটে স্পিনারদের সামনে এই কঠিন পরীক্ষা দিতেই হবে প্রোটিয়াদের। নিজেদের চোকার্স তকমাটা অনেকটাই ঘুচিয়ে আনা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ।
