রান তাড়ায় দল যখন চাপে পড়ে যায়, তখনই জ্বলে ওঠেন বিরাট কোহলি। চাপের মধ্যে ব্যাটিং করতেই যেন তার আনন্দ। গতকাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটাই করে দেখালেন। সেঞ্চুরি না পেলেও খেলেছেন ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, সেই ইনিংসের সিংহভাগ রান এসেছে সিঙ্গেলস থেকে!
২৬৪ রান তাড়ায় নেমে কোহলি খেলেছেন ৯৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংস। উইকেটে ছিলেন ১৩৫ মিনিট। পরপর তিনটি জুটি উপহার দিয়েছেন। অথচ, কোহলির ৮৫.৭১ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসে বাউন্ডারি মাত্র ৫টি, একটাও ছক্কা মারেননি। এই ইনিংস খেলার পথে স্রেফ সিঙ্গেলস নিয়েছেন ৫৬টি, ডাবলস ৪টি। এর থেকেই বোঝা যায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করতে কিং কোহলির জুড়ি নেই। ফিটনেসেও তিনি অসামান্য।
শুধু কি এই ম্যাচ? গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছে স্রেফ ২৮ রান। বাকি সব রান দৌড়েই নিয়েছেন বিরাট কোহলি। কঠিন উইকেটে স্ট্রাইক রেট ছিল ৯০। শুধু এই দুই ইনিংসেই নয়, এটা কোহলির ক্যারিয়ারজুড়েই দেখা গেছে। দুর্দান্ত ফিটনেসের কারণে দৌড়ে রান নিতে তার জুড়ি নেই। গতকাল তো বলেই দিলেন, চার-ছক্কার চেয়ে দৌড়ে রান নিতেই তার ভালো লাগে।
কোহলির ভাষায়, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির ম্যাচেও একইরকম ছিল। সম্ভবত সাতটি চার মেরেছিলাম। আমি কন্ডিশন বুঝে সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করি এবং প্রান্ত বদলে মনোযোগ দেই। এই ধরনের উইকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জুটি তৈরি করা। পাকিস্তান ম্যাচে এবং আজ (গতকাল) এটাই ছিল আমার একমাত্র চেষ্টা। আসলে উইকেটই আমাকে বলে দেয় কীভাবে খেলতে হবে। আমি সতর্ক হই এবং সেভাবে খেলি।’
তিনি বলেন, ‘ক্রিজে এসে মরিয়া চেষ্টা করিনি। ধৈর্য ধরেছি, টাইমিংয়ে মনোযোগ দিয়েছি। ফাঁকা জায়গায় বল পাঠিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে যদি কেউ গর্বিত হয়, তখনই বুঝতে হবে, ভালো ক্রিকেট খেলছি। এভাবেই বড় জুটির অংশ হওয়া যায়, স্নায়ুর চাপকে থিতু করা যায় এবং রান তাড়ার পথে এগিয়ে যায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এবং আজ (গতকাল) এটিই আমার কাছে ছিল সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা সময় কোহলির সেঞ্চুরি সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু অ্যাডাম জ্যাম্পাকে তুলে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন লং অনে। নিজের আউট নিয়ে মৃদু হেসে কোহলি বলেন, ‘যখন আমি আউট হয়েছি, তখন পরিকল্পনা ছিল দ্রুত আরও ২০ রান তুলে দুই ওভারের মধ্যে খেলা শেষ করার। সাধারণত এই ধরন অনুসরণ করেই আমি ইনিংস এগিয়ে নেই। তবে কখনও কখনও সবকিছু ইচ্ছামাফিক হয় না।’
উল্লেখ্য, ওয়ানডে ক্রিকেটে কোহলির মোট ১৪ হাজার ১৮০ রানের মধ্যে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৬ হাজার ৬১২ রান।। বাকি ৭ হাজার ৯৬৮ রানই করেছেন দৌড়ে! এই পরিসংখ্যানই তাকে অসামান্য এক ব্যাটারের স্বীকৃতি দেয়।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায়ের পর স্মিথের অবসর ঘোষণা
আইসিসির সব টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা একমাত্র অধিনায়ক রোহিত
রান তাড়ায় বিরাট কোহলিই ইতিহাসের সেরা: স্টিভেন স্মিথ
বাড়তি সুবিধা নয়, ভারত যোগ্য হিসেবেই জিতেছে: স্মিথ
রেগে গিয়ে গম্ভীর বললেন ‘কীসের অতিরিক্ত সুবিধা?’