কোহলি-পাতিদাররাই কি আইপিএল শিরোপা রেখে দিচ্ছে!

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

ধর্মশালায় তাড়া করার রেকর্ড দারুণ হলেও, টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইতিহাস গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অধিনায়ক রজত পাতিদারের অতিমানবীয় ব্যাটিং এবং পেসারদের আগুনে বোলিংয়ে গুজরাট টাইটান্সকে  ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে টিকিট কাটল আরসিবি।

‎পরিসংখ্যান মানলে, কোহলি-পাতিদাররা টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে যাচ্ছে। কারণ, আইপিএলের গত ৮টি আসরে যে দলই কোয়ালিফায়ার ১ জিতেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

আরসিবির তাণ্ডব

‎ইনজুরির কারণে প্রথম পছন্দের ওপেনার ফিল সল্ট একাদশে না থাকলেও আরসিবির আগ্রাসনে কোনো কমতি ছিল না। মেকশিফট ওপেনার হিসেবে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজকে পরপর দুই বলে চার মেরে শুরু করেন। কাগিসো রাবাদার বলে ছক্কা মারার পরের বলেই তিনি আউট (৭ বলে ১৯ রান) হলেও আরসিবির মোমেন্টাম নষ্ট হয়নি। বিরাট কোহলি (২৫ বলে ৪৩) ও দেবদত্ত পাডিক্কাল (১৯ বলে ৩০) মিলে মাত্র ৪ ওভারেই দলীয় ৫০ পার করেন, যা গুজরাটের মূল বোলিং প্ল্যান (পাওয়ারপ্লেতে সিরাজ ও রাবাদাকে দিয়ে টানা বল করানো) ভেস্তে দেয়।

‎পাওয়ারপ্লেতে ৬৬ রান তোলার পর জেসন হোল্ডার ও রশিদ খানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে গুজরাট। রশিদ খান তার প্রথম দুই ওভারে কোনো বাউন্ডারি দেননি। অন্যদিকে, হোল্ডার এক ওভারে কোহলি ও পাডিক্কালকে ফিরিয়ে আরসিবিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। একপর্যায়ে আরসিবির স্কোর ছিল ৯৪/৩।

‎২৬ রানে থাকার সময় কাগিসো রাবাদার হাতে জীবন পান আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার। আর এই ভুলের চড়া মাশুল দিতে হয় গুজরাটকে। ১৪ ওভার শেষে আরসিবির রান ছিল ১৪০/৩। কিন্তু ১৫তম ওভারে কুলবন্ত খেজরোলিয়ার নো-বল এবং ফ্রি-হিটের পর থেকে শুরু হয় পাতিদার-ঝড়। শেষ ৬ ওভারে আরসিবি তোলে ১১৪ রান!

মাত্র ৩৩ বলে ৯টি ছক্কা ও ১টি চারে অপরাজিত ৯৩ রান করেন পাতিদার। আইপিএল ইতিহাসে ৯০ বা তার বেশি রানের ইনিংসে এটিই দ্রুততম বা সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের (২৮১.৮১) রেকর্ড। তিনি বৈভব সূর্যবংশীর (৩৭ বলে ১০৩) রেকর্ড ভেঙে দেন।

‎২৫৫ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লে-র মধ্যেই অর্ধেক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় গুজরাট টাইটান্স (৫১/৫)।

অধিনায়ক শুভমন গিলকে (২) চমৎকার একটি ওবল-সিম ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর কুমার। জস বাটলার ১১ বলে ২৯ রান করে জোশ হ্যাজেলউডের শিকার হন।

‎শেষদিকে রাহুল তেওটিয়া ৪৩ বলে ৬৮ রানের একটি একরোখা ইনিংস খেলেন। তার এই লড়াইয়ের কারণেই গুজরাট টাইটান্স প্লে-অফের ইতিহাসে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জা থেকে বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয় গুজরাট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত