১৯৬৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আসামের বরাক উপত্যকা, যার ঠিক নিচেই সুরমা উপত্যকা, সেখানে কচুবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এক শিশুকন্যা সুদেষ্ণা। গ্রামবাসীরা আদর করে তার ডাকনাম দেয় ‘বুলু’।
আজ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ভাষা শহীদ সুদেষ্ণা দিবস। ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ মাতৃভাষার অধিকার চাইতে গিয়ে প্রাণ দেন ৩২ বছর বয়সী বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী বিপ্লবী নারী সুদেষ্ণা সিংহ।
শনিবার (১৬ মার্চ) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির আয়োজনে শোকর্যালি ও শহীদ সুদেষ্ণার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
পরে একাডেমির অডিটোরিয়ামে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও প্রভাস চন্দ্র সিংহের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরেশ্বর সিংহ, মণিপুরী যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রদীপ কুমার সিংহ, শিক্ষক বসন্ত কুমার, সাংবাদিক নির্মল এস পলাশ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, পৃথিবীর ভাষার ইতিহাসে এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী জাতির ইতিহাসে এ ১৬ই মার্চ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। বাংলাদেশ ও ভারতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা কখনোই সুদেষ্ণা এবং তার আত্মত্যাগের কথা ভুলতে পারে না। বিশ্বের নানা দেশেই ভাষার অধিকারের লড়াই হয়েছে। নানা দেশে যে আন্দোলনগুলো হয়েছে, সেগুলোর কোনটা অহিংস, কোনটা ছিল সহিংস। সুদেষ্ণাই পৃথিবীর সর্বপ্রথম আদিবাসী ভাষাশহীদ, যিনি মাতৃভাষা স্বীকৃতির আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেছেন। পৃথিবীতে এ যাবত দু’জন নারী ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তার মধ্যে সুদেষ্ণা সিংহ একজন।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষায় বাংলা ভাষা আন্দোলনের মতো সংগ্রামে ঝরেছিল কয়েকটি প্রাণ। এ আন্দোলনের রেষ ধরে আসামে ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ প্রাণত্যাগ করেন বিপ্লবী নারী সুদেষ্ণা সিংহ। উনার আত্মদানের মধ্য দিয়ে মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষা অনন্য স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাই ভারত-বাংলাদেশের মণিপুরী সম্প্রদায় এ দিন শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে।
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণীর
ম্যাচ বর্জনের হুমকি রিয়াল কোচ আনচেলত্তির
বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা, হাইকোর্টের রায় পড়া চলছে