তৌহিদ হোসেন-গ্যারি পিটার্স বৈঠক

বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৫, ১১:২৭ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন সিনেটর গ্যারি সি. পিটার্স। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’য় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সিনেটরের সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সিনিয়র কূটনীতিকগণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথমবার বাংলাদেশ সফরের জন্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সিনেটর গ্যারি পিটার্সকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

তিনি সিনেটরকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। সিনেটর চলমান এসব উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলোচনার সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে আলোচনা করেন  এবং বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সিনেটরকে জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু মহল বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি সিনেটরের প্রতি অনুরোধ জানান যেন তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করেন। সিনেটর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নোট নেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন এবং নিজে দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তৌহিদ হোসেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্স বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের আশ্বাস দেন।

সিনেটর গ্যারি পিটার্স মিশিগান অঙ্গরাজ্যসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রশংসনীয় অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

বৈঠকটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের অঙ্গীকারের মাধ্যমে শেষ হয়। বৈঠকের পর ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার রাতে দুই দিনের ঢাকা সফরে আসেন সিনেটর পিটার্স। সিনেটর পিটার্স যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া সিনেটর পিটার্স সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত