তামাক ব্যবহারকারীর ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৫ শতাংশ নারী

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫৩ এএম

দেশের ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৫ শতাংশ নারী। অথচ দেশে মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশই তামাক ব্যবহারজনিত কারণে। বিশেষ করে করোনায় অধূমপায়ীদের থেকে ধূমপায়ীদের মৃত্যু ছিল তিনগুণ বেশি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় বক্তারা শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

সভায় মূল প্রবন্ধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়ার জন্য ৬টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাকপণ্যের খুচরা ও খোলা বিক্রি বন্ধ করা ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।

সভার প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) এ. টি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশের অনেক তামাক কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। অথচ ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালে সংশোধনের পর গত ১৮ বছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে ১২ গুণ।

প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের (বিইউএইচএস) অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আক্তার বলেন, দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি) তামাক ব্যবহার করে (গ্যাটস ২০১৭)। তাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী। এমনকি কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ৫৯ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক পাবলিক প্লেসে এবং ৩১ শতাংশ বাড়িতে  পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশ (১ লাখ ৬১ হাজার ২৫২) তামাক ব্যবহারজনিত কারণে হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার তামাক থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পেয়েছিল তার চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি টাকা খরচ হয়েছিল তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসা বাবদ। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করার মুখ্য সময়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (পিএইচ উইং) ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী বলেন, ঢাকার মিরপুর ও সাভারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের লালা পরীক্ষা করে ৯৫ শতাংশের লালায় নিকোটিন পাওয়া গেছে। এরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত