ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু কি স্বাভাবিক ছিল, নাকি চিকিৎসায় চরম অবহেলা হয়েছিল? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে আর্জেন্টিনার আদালত। সান ইসিদরো আদালতে চলছে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত সাতজনের বিরুদ্ধে বিচার। কৌঁসুলিরা এটিকে বলছেন এক ধরনের ‘হরর থিয়েটার’।
মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা লুকাস ফারিয়াস, যিনি ম্যারাডোনার মৃত্যুর দিন সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিস্ফোরক এক স্বীকারোক্তিতে তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার কক্ষে কোনো চিকিৎসার সরঞ্জামই ছিল না!
‘কোনো সিরাম ছিল না, ছিল না চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থাও।’
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের এক অভিজাত এলাকায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ম্যারাডোনা। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা থাকলেও, বাস্তব চিত্র ছিল অন্যরকম।
লুকাস ফারিয়াস আদালতে বলেন, “ডিয়েগো ম্যারাডোনার মুখের অবস্থা এবং তলপেট এতটাই ফুলে গিয়েছিল যে মনে হচ্ছিল, যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হবে। ওভাবে তাঁকে দেখে আমি চমকে গিয়েছিলাম! কখনো ভাবিনি এমন দৃশ্য দেখতে হবে।”
ম্যারাডোনার চিকিৎসায় দায়িত্বে ছিলেন মোট আটজন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে মামলা চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন— নিউরোসার্জন, মনোরোগবিদ, মনোবিজ্ঞানী, মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর, নার্স কো-অর্ডিনেটর, এক চিকিৎসক, রাতের পালার এক নার্স। দিনের পালায় দায়িত্বে থাকা নার্সের বিচার হবে আলাদাভাবে।
কৌঁসুলিদের অভিযোগ, “ম্যারাডোনাকে দীর্ঘ সময় ধরে চরম যন্ত্রণার মধ্যে রেখে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।” যদি অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই মামলায় মোট ১২০ জন সাক্ষী হাজির হবেন। বিচার প্রক্রিয়া চলবে আগামী জুলাই পর্যন্ত।
সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের মৃত্যু হৃদরোগজনিত সমস্যা ও ফুসফুসে তরল জমে যাওয়ার কারণে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ হলে, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এটি হবে এক ভয়াবহ কলঙ্কজনক অধ্যায়!
রোজা রেখেই স্পেনের হয়ে মাঠে নামবেন ইয়ামাল
শেফিল্ডের খেলাটাই বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন হামজা