আবারও আগুন লেগেছে সুন্দরবনে। শনিবার (২২ মার্চ) সকালে পূর্ব বনবিভাগের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন।
বনরক্ষী ও স্থানীয়রা নালা কেটে (ফায়ার লেন) আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। শরণখোলা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ মে চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া বনের লতিফের ছিলা এলাকায় আগুন লেগে ৭.৯৮ একর বনভূমির গাছপালা পুড়ে যায়। এতে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকার ক্ষতি হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
পূর্ব সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার বিপুলেশ্বর দাস দুপুর আড়াইটার দিকে মোবাইল ফোনে জানান, সকাল ৭টার দিকে কলমতেজী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন টেপারবিল নামক এলাকার বনের ওপর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখতে পান স্থানীয় গ্রামবাসী। তারা অফিসে এসে এ খবর জানালে লোকজন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বনরক্ষীরা। তাৎক্ষণিক আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অগ্নিকাণ্ড এলাকায় নালা কাটা শুরু করেন। যাতে বনের ব্যাপক এলাকায় আগুন ছড়াতে না পারে।
স্টেশন কর্মকর্তা বিপুলেশ্বর জানান, অগ্নিকাণ্ডের স্থান বন অফিস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। কাছাকাছি কোথাও পানির কোনও উৎস নেই। বনের খাল তার দূরত্বও ঘটনাস্থল থেকে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার। জোয়ার হলে নৌপথে পাম্প মেশিন নিয়ে পানি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পর তারা রওনা দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য পান্না মিয়া বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সুন্দরবনের টেপারবিল এলাকার বনের ওপর থেকে ধোয়া উড়তে দেখে লোকজন তাকে জানায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাবি আলম জানান, খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে তারা রওনা দিয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও কচুয়া থেকেও ফায়ার সার্ভিসের আরো তিনটি ইউনিটকেও খবর দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করীম জানান, সুন্দরবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তাৎক্ষণিক এর বেশি জানাতে পারেননি তিনি।
২০ ফুট লম্বা অজগর লোকালয়ে, বনে অবমুক্ত
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে