ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ডানপন্থী রাজনীতিক ব্রুনো রেতায়োর দূরত্ব আরও বেড়েছে। সম্প্রতি তার বিতর্কিত মন্তব্যে মুসলিমদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রেতায়ো এক বক্তব্যে বলেন, ইসলাম একটি সাধারণ ধর্ম নয় এবং এটিকে তিনি ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, আমরা এমন একটি ইসলাম চাই যা আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সম্মান করে।
এই মন্তব্যকে অনেকেই মুসলিমবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফ্রান্সের ইসলামী ধর্মীয় পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য বিদ্বেষ ছড়ায় এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করে তোলে। মানবাধিকার সংগঠন ও বামপন্থী রাজনীতিকরাও রেতায়োর বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ ও ‘বিভাজনমূলক’ বলে সমালোচনা করেছেন।
এই বিতর্ক সামনে এলো এমন একটি সময়ে, যখন ফ্রান্সে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্রতর হচ্ছে। ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে।
লিওঁর গ্র্যান্ড মসজিদের রেক্টর কামেল কাবতানে ১৯৩০-এর দশকের পরিবেশের কথা তুলে ধরে বলেছেন, যেখানে ধর্মীয় অনুশীলন সন্দেহজনক হয়ে ওঠে এবং মুসলমানদের জনসাধারণের স্থান থেকে অদৃশ্য হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একইভাবে, ফ্রান্সে তুর্কি মুসলিমদের সমন্বয় কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম আলসি মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতি বর্ণনা করেছেন, যেখানে তারা ক্রমাগত অভিযুক্ত হওয়া এবং ব্যঙ্গচিত্রে পরিণত হওয়ার কারণে ক্লান্ত হয়ে উঠেছেন।
তিনি বলেন, মুসলিমরা শুধু প্রজাতন্ত্রের আইন অনুযায়ী তাদের বিশ্বাস পালন করতে এবং নাগরিক অধিকার পুরোপুরি স্বীকৃত হতে চায়, কোনো ধরনের অবমাননা ছাড়া এটাই মনে করে স্থানীয় মুসলিম ও অভিবাসীরা।
