সিরাজগঞ্জ যমুনার চরে বাণিজ্যিক ভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছর পরীক্ষামূলক চাষের পর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা ব্যাপক হারে চাষ শুরু করেছে। এ বছর ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। যমুনার চরে শত শত বিঘা জমিতে ফুটেছে সূর্যমুখী ফুল যা প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। যমুনার চর এখন সৌন্দর্য্য পিপাষুদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। শহরের বায়ুদূষণ ও কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির এই মনোরম পরিবেশে তারা খুজে নিচ্ছে নৈসর্গিক প্রশান্তি। ফলে প্রতিদিনের শত শত মানুষের ভিড়ে নিস্তব্ধ যমুনার চর কোলোহলে ভরে গেছে। দিগন্তজুড়ে পরন্ত বিকেলে সূর্যমুখী ফুলের হলুদ আভায় প্রকৃতি সেজে ওঠে এক অন্য আভায়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া, চরগিরিশ, তেকানিসহ বিভিন্ন চরে দেখা দিয়েছে প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য। বন্যায় চরের জমিতে নতুন পলি পড়ায় সূর্যমুখী ফুল ও গাছের বাড়ন্ত চোখে পড়ার মতো। গত তিন বছর ধরে এখানে এ চাষাবাদ হচ্ছে। সাধারণত এক সময় চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা পরিত্যক্ত থাকতো। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির সহায়তায় চরে সূর্যমুখী চাষাবাদে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় বৈচিত্র্যময় চরের কৃষিতে এ চাষাবাদ ব্যাপক আশার আলো জাগিয়েছে। সম্ভাবনাময় এ ফসলটি ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে কৃষকরা রোপন করে থাকে। চাষিরা জমিতে ভালো ভাবে মাটি প্রস্তুতের পর সারিবদ্ধ ভাবে এর বীজ বপণ করে থাকে। সূর্যমুখী ফুল পুষ্ট হলে ১১০দিন পর ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করা যায়।
চাষিরা জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে ফুল চাষে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়। সামান্য সার ও কয়েকবার পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া তেমন কোন পরিশ্রম ও খরচ নেই। চাষীরা আরও জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস তাদের এই চাষাবাদে বীজ, রাসায়নিক সারসহ সব রকমের সহযোগিতা ও পরার্মশ দিয়ে থাকেন। এবছর সূর্যমুখী গাছে প্রচুর ফুল ধরেছে। গত বছর বিঘা প্রতি জমিতে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মণ করে সূর্যমুখী বীজ উৎপাদন হয়েছিল। যা ৫ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়া ফুল গাছ জ্বালানি হিসেবে বিক্রি কওে বাড়তি আয় হয়েছে। এবারও তারা ভালো ফলন ও লাভের আশা করছেন। চরে সূর্যমুখীর এমন সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। হলুদের রাজ্যে নিজেদের ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। সূর্যমুখী ফুলের কারণে চরে ছুটে আসছেন শত শত ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। তারা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ আনোয়ার সাদাত জানান, সূর্যমুখী বীজের তেল কোলেস্টোরল মুক্ত। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় আমাদের শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যেকোনো তেলের চাইতে সূর্য্যমুখী তেল দশগুণ বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। আর এ কারণেই দিন দিন সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ছে। ফলে এর চাষাবাদও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ২০বিঘা জমিতে এবার সূর্যমুখীর চাষাবাদ হচ্ছে। আমার চরাঞ্চলে এর চাষাবাদ আরো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছি।
সিরাজগঞ্জে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার বলেন, এবার জেলায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, কামারখন্দ, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে মোট ২১ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে চৌহালী উপজেলায়। তিনি আরও বলেন, গত বারের চেয়ে এবারে সূর্যমুখী ফুলের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি সহায়তা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে সূর্যমুখী ফুল চাষ যমুনার ভাঙ্গণ কবলিত চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য বদলে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক ভাবে তারা লাভবান হওয়ায় দিন দিন এ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
