ঈদযাত্রা 

ঢাকা ছাড়তেই যত বিপত্তি

  • আজ ও কাল পথে বাড়বে চাপ
  • ঢাকার প্রবেশমুখ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
  • ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছিল না যানজট
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার
  • বিআরটিএ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

 

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:২৪ এএম

ঈদ উৎসবে ঘরমুখো মানুষের ‘চিরায়িত’ ভাবনা-- ‘এবার পথে স্বস্তি নাকি ভোগান্তি’? ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রথম থেকেই পথেঘাটে-স্টেশনে নেওয়া হয় নানা ব্যবস্থাপনা। তবে শেষদিকে মানুষে ঢলে সেই ব্যবস্থাপনা অনেকটা ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে সড়কপথে একসঙ্গে হাজারো গাড়ির চাপ ডেকে আনে দুর্ভোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রবেশপথ ছাড়তেই লেগেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

আজ শুক্রবার থেকে মূলত শুরু হচ্ছে ঈদের লম্বা সরকারি ছুটি। ফলে আজ ও আগামীকাল গাড়ির চাপ বাড়বে। মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থাপনা ছাপিয়ে পথে দুর্ভোগ পোহাতে হয় কি না, তা নিয়ে রয়েছে আশঙ্কা। তবে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীরা।

সরেজমিন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মহাসড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও যানজট ছিল না। থেমে থেমে চললেও চাকা থামেনি। তবে যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা ছাড়তেই পথের ভোগান্তির গন্ধ পেয়েছেন তারা। ট্রাফিকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু একসঙ্গে প্রচুর গাড়ি নামায় ঢাকার প্রবেশমুখে কিছুটা যানজট হয়েছে।

ঢাকা থেকে সিলেট যাবেন মো. রাকিব নামে এক যাত্রী। গতকাল বাসস্ট্যান্ডে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনলাম সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রাবাড়ী পাড়ি দিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। হানিফ ফ্লাইওভারেও দীর্ঘ যানজট।’

কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠা নাঈম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘গাবতলী পাড়ি দিতেই তো এক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। গাড়ি আগেই বাড়ছে না।’ 

তবে গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছিল না যানজট। গাজীপুরে ছিল না চিরচেনা সেই যানজট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও জটমুক্ত গাড়ি চলছে। তবে আজ ও আগামীকাল আরও ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে। ফলে জনমনে রয়েছে ভোগান্তির শঙ্কা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদযাত্রায় এবার ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ যাত্রা করবে। দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আরও তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি মানুষের যাতায়াত হতে পারে। যার ৭৫ শতাংশ সড়কপথে, ১৭ শতাংশ নৌপথে এবং ৮ শতাংশ রেলপথে যাতায়াত করবে।

এদিকে উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। যদিও ভাড়া মনিটরিং করতে বিআরটিএর বিশেষ টিমকে কাজ করতে দেখা যায় টার্মিনালগুলোতে।

গাড়ির চাপ বাড়লেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছিল না যানজট

ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়লেও নেই যানজট। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ৭৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা। মহাসড়কে যানজট নিরসনে পুলিশের ৭৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

মহাসড়ক-সংশ্লিষ্টরা বলেন, ঈদযাত্রায় বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সকাল থেকে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে বিকেলের দিকে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৭৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৮ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫০টাকা। অন্যদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৫২৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার যমুনা সেতু দিয়ে ৪ হাজার ৫৩৩টি যানবাহন বেশি পারাপার হয়েছে। গত ৩ দিনে সেতুর ওপর দিয়ে মোট ৮৭ হাজার ৯৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশে ৯টি করে ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে দুপাশেই মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে বুথ রয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে সার্বক্ষণিক যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

গাজীপুরে নেই চিরচেনা যানজট

গাজীপুরে নেই চিরচেনা যানজট। যাত্রীরা কোনো ধরনের ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। পরিবহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সড়কে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যানবাহনগুলো যাত্রী নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে চলে যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগে যেমন শত শত মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকত, এখন আর সে অবস্থা নেই। নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে বাসগুলো যাত্রী তুলছে এবং গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গতকাল দিনভর যানবাহনের চাপ ছিল কয়েকগুণ। চাপ বাড়লেও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। মহাসড়কের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থীরাও কাজ করছে।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর যানবাহন এবং ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ ছিল। সেখানে সার্ভিস লেনে যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য কিছুটা জটলা থাকলেও মূল সড়কে কোনো যানজট ছিল না। অনেকটা স্বস্তি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। এ ছাড়া সকাল থেকে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে মানুষ বাড়ি ফিরছে। এ দুই মহাসড়কের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা চান্দনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা স্টেশনে যাত্রী ও পরিবহনগুলো ভিড় করছে।

গাজীপুরের কারখানাগুলো বৃহস্পতিবার ছুটি দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়ানোর জন্য ঘরমুখো যাত্রীরা আগেভাগেই বাড়ি ফিরছেন। যাত্রীদের অনেকেই বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। তবে পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে যাত্রী টানতে নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে কম ভাড়া নেওয়া হতো। এখন নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ায় অনেকে এটিকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তায় যাত্রীরা ভিড় করছেন। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে আছেন। স্টেশনগুলোতে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে। তবে কোথাও কোনো যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। জেলার ২ হাজার ১৭৬টি ছোট-বড় মিলিয়ে কলকারখানা। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫৪টি পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করেন প্রায় ২২ লাখ কর্মী। ইতিমধ্যে অনেক কলকারখানা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। যানজট থেকে রেহাই পেতে ঘরমুখো মানুষেরা আগেভাগেই ঈদযাত্রা শুরু করেছে।

ঈদ উপলক্ষে র‌্যাব-১০-এর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

ঈদের লম্বা ছুটিতে প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করছে ঘরমুখী মানুষ। ফলে এ ছুটির সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধিসহ অপরাধীদের সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য রাজধানীর ব্যস্ততম বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে তৎপর রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০ আসন্ন ঈদুল ফিতরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে রোবাস্ট প্যাট্রলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য মোতায়েন, চেকপোস্ট স্থাপন, জাল টাকা বিস্তার রোধ ও শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া ফুট প্যাট্রল ও সাইবার ওয়ার্ল্ডের নজরদারিতে র‌্যাব-১০ সদা তৎপর থাকবে।

গতকাল রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ঈদের ছুটিতে র‌্যাব-১০-এর গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। ঈদযাত্রায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ বাসে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। ঈদকেন্দ্রিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, দোলাইরপাড়, শ্যামপুর, ওয়ারী, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও মাওয়া ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাব-১০। এ ছাড়া একই সঙ্গে র‌্যাবের সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি স্ট্রাইকিং মোবাইল ফোর্স কাজ করবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।

গতকাল রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে র‌্যাব আয়োজিত যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে র‌্যাব-৪ কর্র্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

মো. মাহবুব আলম বলেন, এই ঈদ নির্বিঘ্ন করার জন্য আমরা তিনটি স্তরে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। প্রথম স্তরে বাসস্ট্যান্ড বা যেসব জনবহুল শপিং সেন্টার আছে, সেসব স্থানগুলোতে এবং এর আশপাশে আমাদের ২৪টি প্যাট্রল টিম টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্বিতীয় স্তরে বাসস্ট্যান্ড বা অন্য যেসব শপিং সেন্টার আছে, যেখানে ছিনতাই বা অজ্ঞান পার্টি বা মলমপার্টি এ ধরনের চক্রগুলো সক্রিয়, সেসব এলাকায় আমাদের সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। তৃতীয় পর্যায়ে আমাদের কাছে স্ট্রাইকিং মোবাইল রিজার্ভ থাকছে যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কোনো স্থানে যদি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় বেশি ভাড়া আদায় করা ও চাঁদাবাজির কোনো সিন্ডিকেট যদি আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি অথবা অন্য কোনো পরিস্থিতি সে ক্ষেত্রে আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স স্বল্প সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবে। আপাতত এভাবেই আমাদের নিরাপত্তা প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

ঈদযাত্রায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে দ্বিতীয় দিনে গতকাল রাজধানীর আবদুল্লাপুরের বিভিন্ন কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে চারটি মামলা করা হয়, জরিমানা করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

বিআরটিএ জানায়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে গতকাল নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে উত্তরা, আবদুল্লাপুর ও আশপাশের বিভিন্ন কাউন্টারে অভিযান চালায়। এ সময় সেবা গ্রিনলাইন ও ইসলাম পরিবহনকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং কয়েকজন যাত্রীকে অতিরিক্ত গ্রহণকৃত ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়। আর কোটালীপাড়া পরিবহনকে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় এবং অভি পরিবহনকে টিকিটবিহীন যাত্রী ওঠানোর অপরাধে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এছাড়া যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, কাউন্টারে ভাড়া বেশি না নেওয়া, যথাযথভাবে টিকিট দেওয়া এবং যানজট সৃষ্টি না করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকবে।

এর আগে বুধবার সায়েদাবাদ, গাবতলী, ফুলবাড়িয়া, মহাখালী বাস টার্মিনাল, আবদুল্লাহপুর, মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিআরটিএ। এতে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রিপোর্টটি করতে সহযোগিতা করেছেন গাজীপুর প্রতিনিধি ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত