পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই পরিবারের সদস্য, শিশু এবং সাধারণ মানুষ।
এছাড়া, ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, গাজায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের কারণে নিখোঁজ ৮ জন চিকিৎসক ও ৫ জন বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং রেড ক্রিসেন্ট।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের মুখে পড়ার পর ওই চিকিৎসকদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, জাতিসংঘের একজন কর্মচারীর লাশও উদ্ধার করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এই ঘটনা ২০১৭ সালের পর থেকে বিশ্বে তাদের কর্মীদের ওপর সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৫০ হাজার ২৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৫ জন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের দিন গাজায় পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে ফিলিস্তিনিরা ঈদ উদযাপন করে থাকেন, কিন্তু এ বছর এই দিনটি বিপর্যয়ের মধ্যে পরিণত হয়েছে। গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় সকাল বেলা ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান থেকে গুলি চালানো হয়, এবং গাজার বিভিন্ন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ও কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়।
ফিলিস্তিনিরা যেখানকার ঐতিহ্য অনুযায়ী ঈদের দিন নতুন পোশাক পরিধান করে আনন্দ উদযাপন করতেন, সেই দৃশ্য এখন একেবারেই অনুপস্থিত। এখন তাদের সামনে রয়েছে ক্ষুধা, ধ্বংসস্তূপ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। গাজার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ‘আজ ভোরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানকার বসতিগুলো ধ্বংস করে চলেছে।’
ঈদের সকালে চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহত ৫
ঈদ কেবল উৎসব নয়, এটি সমাজের সংহতির প্রতিচ্ছবি