মধ্যরাতে বাসে ইট নিক্ষেপ, ৪০ কিমি ধাওয়া, অতঃপর ...

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪১ পিএম

ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাওয়ার পথে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হতেই ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে একদল তরুণ বাসটির পিছু নেয়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া। দুই দফা পাথর ছুড়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করে তারা। আহত হন চালক। শেষ পর্যন্ত নোয়াখালীর সুধারাম থানার সামনে এসে শেষ হয় মধ্যরাতের এই ভয়ংকর যাত্রা। সোমবার (৩১ মার্চ) মধ্যরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা-নোয়াখালী অংশে এ ঘটনা ঘটে।

আর ৪০ জন যাত্রীকে রক্ষা করে প্রশংসায় ভাসছেন চালক মো. সোহেল (৩৮)। বর্তমানে তিনি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলায় বাসচালক সোহেলের চোয়াল থেঁতলে গেছে। মাথা ও চোয়ালে লেগেছে ৩১টি সেলাই। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত।

আহত বাস চালক সোহেল সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের গোলাম রহমানের বাড়ির শফিকুল ইসলামের ছেলে। 

শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় চালক সোহেলের সাথে। তিনি জানান, গত ১৫ বছর ধরে বাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গত সোমবার দিবাগত রাতে একুশে পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে নোয়াখালী আসছিলেন। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হলে ১২ থেকে ১৩টি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে একদল তরুণ বাসটি অনুসরণ শুরু করেন।

এরপর প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ বাসটিকে ধাওয়া করেন তারা। একপর্যায়ে কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় বাসটি থামানোর জন্য দুই দফায় চালককে লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন তারা। এতে চালক আহত হন। এরপরও যাত্রীদের বাঁচাতে গুরুতর আহত অবস্থায় বাস চালিয়ে যান তিনি।

সোহেল আরো বলেন, দুই দফায় আমার শরীরে ইটের আঘাত লাগে। যাত্রীদের কথা চিন্তা করে বাস চালাতে থাকি। যদি তারা বাস থামাতে পারত আমাকেও প্রাণে মেরে ফেলত। এরপর বাসটি নোয়াখালী সুধারাম থানার সামনে নিয়ে যাই। পরে যাত্রীরা নেমে থানায় ঢুকে পড়ে।

জানা যায়, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার পরে বাস মালিক সুধারাম মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে চান। কিন্তু সুধারাম মডেল থানা থেকে সোনাইমুড়ী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানা থেকে আবার লাকসাম থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেলকে সাইড না দেওয়ায় ওই তরুণেরা বাসটির চালকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে জেনেছে তারা।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সোহেলের মাথা ও চোয়ালে ৩১টি সেলাই লেগেছে। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত। তবে তার অবস্থা এখন উন্নতির দিকে।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম বলেন, তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা এই রুটের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাজ করছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে থাকলে এত লম্বা পথ পর্যন্ত কেন ধাওয়া করবে। এই রুটে অনেক গাড়ি চলাচল করে, গত পাঁচ বছরে কোনো বাস ডাকাতির ঘটনা পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। পরে আপডেট জানাব। তবে বাসের মালিক মামলা দিতে চাইলে মামলা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত