রিমান্ডে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদেও অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিস দিচ্ছে না সাজ্জাদ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলায় মো. সজিব নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রাতে নগরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরের বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন। এ নিয়ে জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৩। তবে যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে জোড়া খুন সেই অস্ত্রের হদিস এখনো পায়নি পুলিশ। জোড়া খুনের মামলায় সাজ্জাদ ও তার দুই সহযোগীকে পুলিশ রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে মুখ খুলছেন না তারা।

জানা গেছে, অস্ত্র ভাণ্ডারের খোঁজে গতকাল রোববার (৬ এপ্রিল) গভীর রাতে সাজ্জাদকে নিয়ে রাউজান উপজেলায় অভিযান চালালেও সেখান থেকে খালি হাতে ফিরে এসেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন সোমবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানান, যার কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, জোড়া খুনের মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ চান্দগাঁও থানা এলাকার বালু ব্যবসায়ী তাহসীন হত্যা পাঁচদিন এবং জোড়া খুনের মামলায় তার দুই সহযোগী বেলাল ও মানিক চারদিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কিন্তু অস্ত্র ভাণ্ডার এবং জোড়া খুনসহ নগর জুড়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মুখ খুলছেন না সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা।

গত ১৫ মার্চ রাতে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের ‘কৃতিত্ব’ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ভয়ংকর এ অপরাধীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করলেও রুমা আক্তার নামের এক নাররী দাবি, তিনি এবং তার স্বামী আকরামই সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে  লোকজনের সহায়তায় আটক করে পুলিশে খবর দেন। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিয়ে এখন রুমা আক্তার এবং তার পরিবার বিপাকে পড়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

রুমা আক্তারের ভাষ্য, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাজ্জাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর তার (সাজ্জাদ) অনুসারীরা তাকে এবং তার স্বামী আকরামকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ওই পরিবারটি সম্প্রতি থানায় মামলা করলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

রুমা আক্তারের ভাষ্য, ১৫ মার্চ রাতে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে গিয়ে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নাকে দেখতে পান তিনি ও তার স্বামী আকরাম। এ সময় আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে সাজ্জাদকে আটকে পুলিশে খবর দেন তারা। সাজ্জাদের গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশ কৃতিত্ব দাবি করলেও সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছেন এই দম্পতি। তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন সাজ্জাদের সহযোগীরা। 

সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান, হাবিব খান এবং চট্টগ্রামে থাকা সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান, হেলাল, হাসান, আরমান, ইমন,  বোরহান, রাজু, দিদার তাকে ও তার পরিবারকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রুমার। প্রাণনাশের হুমকির মুখে গত ১৯ মার্চ রাতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন রুমা আক্তার।

ওই মামলার এজাহারে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সহযোগীরা তার কাছে চাঁদা দাবি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. সোলায়মান সোমবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুমা আক্তার নামে ওই নারী ১৯ মার্চ আমাদের থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। তবে আমরা তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছি।’

এদিকে জোড়া খুনের মামলায় হকুমের আসামি হওয়া সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমীন এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ফিরোজা বেগম। তার প্রশ্ন, জোড়া খুন মামলায় হুকুমের আসামি হওয়া সত্ত্বেও তামান্নাকে কেন এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি? কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়েও সাজ্জাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিস না পাওয়া রহস্যজনক বলে মন্তব্য সচেতন নাগরিক সমাজের।

জানা গেছে, গত রোববার (৬ এপ্রিল) রাতে সাজ্জাদকে নিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানের কদলপুরে নজিরবিহীন অভিযান চালায় পুলিশ। হেলমেট পরিহিত সাজ্জাদকে ঘিরে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সোয়াট পুলিশ। সেখানে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে হুঁশিয়ারি দেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

সাজ্জাদকে নিয়ে নগর পুলিশ রাউজানে নজিরবিহীন কায়দায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে কতটা যৌক্তিক,  সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়েও সাজ্জাদ থেকে তার অস্ত্র ভাণ্ডার ও নগরে একের পর এক খুনের ঘটনার বিষয়ে মুখ খোলাতে না পারা পুলিশের এক ধরণের ব্যর্থতাও মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এছাড়া অভিযানের ভিডিও এবং মাইকিংয়ের বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রামের সচেতন মানুষ মনে করেন, সন্ত্রাস দমনে নগর পুলিশের প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়া রুমা আক্তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাজ্জাদের অস্ত্র ভাণ্ডার ও তার সহযোগীদের খুঁজে বের আইনের আওতায় আনা জরুরি। তবে এজন্য দরকার কার্যকর গোয়েন্দা তৎপরতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত