কক্সবাজারে ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ, ২০ প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২০ পিএম

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে সোমবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভ মিছিল থেকে কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোন কলাতলীতে ইসরায়েলি পণ্যর সাইনবোর্ড থাকা অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার সিটি কলেজ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ফিলিস্তিনে বর্বর হামলার প্রতিবাদে “ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা” কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল হয়েছে টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও।

কক্সবাজার শহরে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে কলাতলী এলাকায় চালানো হয় ভাঙচুর। ওই মিছিলটি কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দান থেকে শুরু হয়ে হলিডে মোড় ঘুরে লাবণী হয়ে কলাতলী যায়। এসময় ভাঙচুর চালানো হয়।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল জানান, ইসরায়েলি পণ্য রাখার অজুহাতে কেএফসি, পিৎজা হাটের পাশাপাশি কাঁচা লংকা, পানসি রেস্টুরেন্ট এবং মেরিন ফুড রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় কাঁচ লেগে কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছে। এছাড়া কলাতলীর মোড় থেকে পর্যটন জোনের যেখানে এমন সাইনবোর্ড ছিল তার সব কটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের ফিলিস্তিনের প্রতি সবসময় সংহতি রয়েছে। আজকের বিক্ষোভ মিছিলেও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তবে কিছু উশৃঙ্খল লোকজনের এমন ঘটনা পর্যটনের জন্য অশনিসংকেত। আমরা ইসরায়েলের পণ্য যত সম্ভব বর্জন করছি। তারা যদি সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলতে বলত তাহলে সুন্দর একটা সমাধান হত।

কক্সবাজার পিৎজা হাটের ইনচার্জ পারভেজ মিয়া বলেন, তারা হঠাৎ মিছিল থেকে ইট-পাটকেল মারা শুরু করে কেএফসি লক্ষ্য করে। তবে কেএফসি ওপরের ফ্লোরে হওয়ার এগুলো পড়ে পিৎজা হাটে। আমাদের বেশকিছু কাঁচ এবং যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আপাতত রেস্টুরেন্ট বন্ধ রেখেছি।

কাঁচা লংকা রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ বলেন, রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ডে সেভেন আপের বিজ্ঞাপন ছিল। এই অজুহাতে আমাদের রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। আমরাও তো ফিলিস্তিনকে সাপোর্ট করি। আমাদের বললে আমরা সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলতাম। কেন রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হলো!

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান জানিয়েছেন, পুলিশ মিছিলের আগে-পিছে ছিল। মাঝখান থেকে কিছু অতি উৎসাহী মানুষ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ঢিল ছোঁড়ে। তবে মিছিলে উপস্থিত মুরুব্বিরা তাদের তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত