২০০৬ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের সামনে আর্সেনাল। আজ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল আতিথেয়তা দেবে রিয়াল মাদ্রিদকে। ২০০৮-০৯ মৌসুমের পর প্রথমবার ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে খেলার পথটা মোটেও সহজ নয় গানার্সদের জন্য।
নতুন ফরম্যাটে হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগে লিগপর্বে ভুগলেও ঠিকই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। রিয়াল ও আর্সেনাল দুই দলই নিজেদের সবশেষ ম্যাচে জয় পায়নি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল ১-১ গোলে ড্র করে এভারটনের বিপক্ষে। আর রিয়াল ২-১ গোলে হারে সেভিয়ার বিপক্ষে। প্রথম লেগ নিজেদের মাঠে বলে আর্সেনাল সুবিধা পাবে এটি বলা মুশকিল। সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে গেল ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ওয়েস্টহ্যামের কাছে হেরেছে আর্সেনাল। গানার্সদের কোচ আর্তেতা অবশ্য সতর্ক আছেন প্রতিপক্ষকে নিয়ে। রিয়ালকে হারানোর কৌশল কী এমন প্রশ্নে এর আগে আর্তেতা বলেছেন, ‘প্রথমত, ওদের চেয়ে আমাদের ভালো করতে হবে। প্রথম মিনিট থেকে জয়ের বিশ্বাস রাখতে হবে। নির্ণায়ক মুহূর্তগুলোতে কার্যকর হতে হবে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ডি-বক্সে। ভালো খেলেও সবসময় রিয়ালের বিপক্ষে জয় পাওয়া যায় না। তবে খারাপ খেললে সেই সম্ভাবনা আরও কম।’
২০০৫-০৬ চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোতে দেখা হয়েছিল আর্সেনাল-রিয়ালের। সেবার প্রথম লেগে রিয়ালের মাঠে ০-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্সেনাল। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন থিয়েরি অরি। পরে দ্বিতীয় লেগে স্বাগতিক আর্সেনাল ও রিয়ালের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। আর্সেনাল সবশেষ রিয়ালের মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৯ সালে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে। সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল।
আর্সেনাল ম্যাচের আগে সেরা একাদশ নিয়ে কিছুটা ভাবতে হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। দলে ইনজুরি সমস্যা আছে। তবে আশার খবর এই ম্যাচ দিয়ে দলে ফিরতে পারেন গোলকিপার থিবো কর্তোয়া। আর্সেনালেও আছে ইনজুরি সমস্যা। গ্যাব্রিয়েল জেসুস, কাই হাভার্টজ, গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, রিকার্ডো কালাফিওরি ইনজুরিতে আছেন। আরেক ম্যাচে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে বায়ার্ন মিউনিখ মুখোমুখি হবে ইন্তার মিলানের। চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনটি শিরোপা জিতেছে ইন্তার মিলান। তার শেষটি জেতে ২০১০ সালে, সেবার ফাইনালে বায়ার্নকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালির ক্লাবটি। এই দুটি ক্লাব চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০২২-২৩ মৌসুমের গ্রুপপর্বে। সেবার দুই দেখাতেই বায়ার্ন জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে।
এবার লিগপর্বে পয়েন্ট টেবিলের চারে থেকে ইন্তার মিলান সরাসরি জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে। আর বায়ার্ন ১২ নম্বরে থেকে প্লে-অফ খেলে ওঠে। তবে শেষ ষোলোতে ইন্তার ফিয়েনুর্দ এবং বায়ার্ন লেভারকুজেনের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে সহজ জয়ই পায়। জার্মান লিগে শীর্ষে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। বলতে গেলে লিগ শিরোপা প্রায় নিশ্চিত তাদের। ইন্তার মিলানও ইতালিয়ান লিগে আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ দুটি ম্যাচে ড্র করেছে তারা। অবশ্য ঘরের মাঠে বায়ার্নকেই ফেবারিট ভাবছেন অনেকে। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল হবে আগামী ৩১ মে মিউনিখের এই অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামেই। সেই ফাইনালে জায়গা করে নিতে চাইবে স্বাগতিক বায়ার্ন। ইন্তারের লক্ষ্য থাকবে বায়ার্নের মাঠ থেকে ভালো ফল নিয়ে দ্বিতীয় লেগে যাওয়া। পরে ফাইনালের জন্য মিউনিখে ফিরতে চাইবেন তারাও।
