অস্ট্রেলিয়ার প্রতিভাবান ওপেনার উইল পুকোভস্কির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমে গেল অকালে। দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুজনিত সমস্যায় (কনকাশন) ভুগে অবশেষে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
মাত্র একটিমাত্র টেস্ট খেলেই শেষ হলো পুকোভস্কির আন্তর্জাতিক অধ্যায়। ২০২১ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে করেছিলেন ৬২ রানের অনবদ্য ইনিংস। কিন্তু পরপর একাধিকবার মাথায় চোট পেয়ে থমকে যায় প্রতিশ্রুতিশীল এই ব্যাটারের পথচলা।
অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত পুকোভস্কি বলেন, 'এটা এমন কোনো ঘোষণা নয়, যেটা আমি আনন্দের সঙ্গে দিতে চাচ্ছি। সত্যিটা হলো—আমি আর কখনও ক্রিকেট খেলব না। এটা আমার জীবনের কঠিনতম একটি বছর ছিল।'
গত এক বছর ধরে পুকোভস্কি মাঠের বাইরে ছিলেন। ২০২৩ সালে শেফিল্ড শিল্ডে তাসমানিয়ার পেসার রাইলি মেরেডিথের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পান তিনি। সেটিই হয়ে ওঠে শেষ ধাক্কা।
২০১৭ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দিয়ে শুরু হয়েছিল পুকোভস্কির পেশাদার যাত্রা। আট বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৩৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, যেখানে ৫১.৪ গড় নিয়ে করেছেন ২৩৫০ রান। সর্বশেষ বড় ইনিংস খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে—নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে করেছিলেন ১৩১ রান, যেখানে ছিলেন নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ স্পিনারও।
শুধু ব্যাট হাতে নয়, শেফিল্ড শিল্ড ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন পুকোভস্কি। ২০২০ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মার্কাস হ্যারিসকে সঙ্গে নিয়ে গড়েছিলেন ৪৮৬ রানের জুটি—টুর্নামেন্টের যেকোনো উইকেটের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
অবসর ঘোষণার পর নতুন ভূমিকায় ফিরছেন তিনি। ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব মেলবোর্ন তাকে নিয়োগ দিয়েছে প্রধান কোচ হিসেবে। একই সঙ্গে চ্যানেল সেভেনে ধারাভাষ্যকার হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন এই সাবেক ওপেনার।
বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ না পেলেও প্রতিভা ও পরিসংখ্যানের দিক থেকে উইল পুকোভস্কি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম ‘দুঃখজনক হারানো সম্ভাবনা’ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মাদ্রিদের ঘুম ভাঙানো বার্তা, ভাগ্যের ওপর ভরসা করলে বিপদ ঘনিয়ে আসেই