ভেসে যাওয়া নৌকা আটকাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ মাঝি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৭ পিএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ভেসে যাওয়া নৌকা আটকাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন মোহাম্মদ জাবের (৪০) নামের এক মাঝি। বুধবার রাতে কর্ণফুলী নদীর কুলাগাঁও জেটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একদিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মাঝি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ১ নম্বর ওয়ার্ড বাইট্টাগোষ্ঠীর বাড়ির মৃত শরীফ আলীর ছেলে। তার সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে ছেলে শহিদুল ইসলাম জনি (১৬) এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে উপজেলার কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা শেষে কান্না করে ছেলে শহিদুল ইসলাম জনি বলে, সারারাত বাবাকে নদীতে খুঁজেও সন্ধান পাইনি। বাবাকে খুঁজতে এখনও পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি। আমরা প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিখোঁজের ছোটভাই মীর আহমদ বলেন, বুধবার আমার ভাই কর্ণফুলীর নদীর কুলাগাঁও জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগাং লিমিটেড জেডি এলাকায় জাহাজের লোকজন ও তাদের পণ্য আনা-নেওয়া করছিলেন। অবসরে নৌকাটি জাহাজের সঙ্গে বেঁধে রাখতেন। রাতে ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নৌকাটি ভাসতে দেখেন তার সহকর্মীরা। এরপর ভাইকে ফোন দিলে জাহাজের কর্মচারীরা রিসিভ করে জানান- সন্ধ্যার দিকে আমার ভাই নৌকা বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। ঘটনার পর আমরা সারা রাত নদীতে তাকে খুঁজে পাইনি। থানা পুলিশ বা নৌপুলিশের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।

জাহাজটির চালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বিকেলে নৌকাটি জাহাজের সঙ্গে বেঁধে রাখেন মাঝি জাবের। হঠাৎ নৌকার রশি ছিঁড়ে গেলে নৌকাটি রক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। আমরা একাধিকবার বারণ করার পরও তিনি কথা শুনেননি। জাহাজটি লোড থাকার কারণে আমরা সেখান থেকে চলে যাই এবং তার পরিবারকে খবর দিই।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরাম উল্লাহ বলেন, নিখোঁজ মাঝিকে উদ্ধারে তাদের স্বজন ও নৌ পুলিশের টিম কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, যে জাহাজটিতে তিনি কাজ করতেন, সে জাহাজে নৌকাটি বেঁধে রেখেছিল। রশি ছিঁড়ে গেলে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন নৌকাটি রক্ষা করতে এমনটাই জানিয়েছে নিখোঁজের স্বজনরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত