ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল

বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

  • এখনই ভারতকে চিঠি দেওয়ার চিন্তা নেই: বাণিজ্য উপদেষ্টা
  • বেনাপোল থেকে রপ্তানির পণ্যবাঝাই ৪টি ট্রাক
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৩ এএম

ভারত হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করলেও এতে করে সমস্যা হবে না বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমান, সিভিল এভিয়েশন, প্রাইভেট সেক্টরসহ সব অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে কোনো সমস্যা বোধ করছি না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। যদিও গত ৮ তারিখ ভারত এই সুবিধা বাতিলের পরদিনই বেনাপোল থেকে রপ্তানির পণ্যবাহী ৪টি ট্রাক ফেরত এসেছে। তৈরি পোশাকবাহী ট্রাকগুলোতে স্পেনে রপ্তানির জন্য গেলেও সেগুলো ভারতে প্রবেশের অনুমতি পায়নি।

জানা যায়, ভারতে এই সুবিধা ব্যবহার করে ৪০-৫০ হাজার টন মালামাল সড়ক পথে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে যেত। সেখান থেকে পণ্যগুলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। এ ছাড়া স্থলপথ ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানি করত বাংলাদেশ।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, নিজস্ব উদ্যোগে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় যেন কোনো ঘাটতি না পড়ে, রপ্তানির ক্ষেত্রে যোগাযোগে যেন কোনো ঘাটতি না পড়ে, সেজন্য সব ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছি তা হয়তো এই মুহূর্তে শেয়ার করব না। আমাদের কাঠামোগত ও খরচের দিক থেকে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াব। আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। এটা আমরা নিজেরাই ক্যারি (পণ্যপরিবহন) করার সক্ষমতা বাড়াব।

পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সেটা আমার বিষয় না। আমার কাজ হচ্ছে বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো। সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।’
ভারতকে কোনো চিঠি দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে না।’  

গতকাল বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্র জানায়, ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর মঙ্গলবার ঢাকা থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক তিনটি প্রতিষ্ঠান ৪টি ট্রাকে করে বেনাপোল নিয়ে যাওয়া হয়। কলকাতার দমদম বিমানবন্দর হয়ে স্পেনে রপ্তানি করার উদ্দেশে পণ্যগুলো পাঠানো হয়। কিন্তু ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস থেকে ট্রাকগুলো প্রবেশের অনুমতি পায়নি।
এদিকে যেসব সমস্যার কারণে দেশের রপ্তানিকারকরা অন্য দেশের অবকাঠামো ব্যবহার করতে চাচ্ছেন দেশে সেসব বিষয়ের উন্নতি সাধনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, বাংলাদেশের বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোতে নিশ্চয় কোনো ত্রুটি আছে। যে কারণে রপ্তানিকারকরা অন্য দেশের বন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনের দিনগুলোতে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্র তার ভ‚রাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এ থেকে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তিও এমন আচরণ করতে পারে। কাজেই অন্য দেশের অবকাঠামো ব্যবহার করে যে আগামী দিনে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাজেই রপ্তানিসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন লজিস্টিক সেবার উন্নয়ন ঘটিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

উল্লেখ্য, ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা দিতে ২০২০ সালের ২৯ জুন আদেশ জারি করেছিল ভারত। গত মঙ্গলবার এই সুবিধা বাতিল করে ভারত। 

এদিকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এ বিষয়ে বাণিজ্য উপদষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ সিদ্ধান্তে বাণিজ্যে একটা স্থিরতা ফিরে আসবে। গতকাল (বুধবার) রাতে ইউএসটিআরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনলাইন মিটিং হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি। খুব দ্রুত আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যাব এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরব। 

তিনি বলেন, এটা একটা সাময়িক স্থগিতাদেশ। তাদের আকাক্সক্ষাগুলো শেষ হয়ে যায়নি। তাই আমাদের দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কতটুকু কী করতে পারব তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত