ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একদল দুর্বৃত্তরা চুরি করতে এসে ব্যর্থ হয়ে দুজনকে কুপিয়ে জখম ও একজনকে পিটিয়ে আহতের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দভাকুরী গ্রামের আব্দুস ছালাম খাঁর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তালা কাটার একটি যন্ত্র, প্লাস ও দেশীয় অস্ত্র রামদা ফেলে যায়। পরে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এগুলো উদ্ধার করে থানায় আনে।
আহতরা হলেন- আব্দুস ছালামের ছেলে মো. জামাল খাঁ (৩২),মো. জাহাঙ্গীর খাঁ (২৫ ) ও মো. কালাম খাঁ (৩৫)। আহত জামালকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে জামালের অপর দুই ভাইকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টার দিকে আব্দুস সালামের পুত্রবধূ রিনা খাতুন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। এসময় রিনা খাতুন দেখেন গোয়ালঘরের সামনে ৩ থেকে ৪ জন টর্চলাইট জ্বালিয়ে কিছু একটা করছে। এ ছাড়া বাড়ির সামনেই একটি ছোট পিকআপ দাঁড়ানো এবং সেখানেও ৩ থেকে ৪ জন অপেক্ষমান। রিনা খাতুন চিৎকার দিয়ে ঘরের দিকে দৌঁড় দিলে তাকে ধাওয়া দেয় দুর্বৃত্তদের একজন। রিনা খাতুনের চিৎকারে স্বামী মো. জামাল খাঁসহ বাড়ির অন্য লোকেরাও সজাগ হন। এ সময় দুর্বৃত্তের সঙ্গে জামালের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রদিয়ে জামালের মুখ ও নাক বরাবর কুপ দিয়ে গুরুতর আহত করে। অন্যদিকে আব্দুস ছালামের বড় ছেলে মো. কালাম খাঁ ও মো. জাহাঙ্গীর খাঁ অপেক্ষমান দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দিলে তাদের মধ্যেও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। দুর্বৃত্তরা জাহাঙ্গীর খাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে। পাশাপাশি কালামকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। এদিকে তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন সজাগ হয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে আব্দুস ছালাম বলেন, বাড়িতে পাশাপাশি ৪ টি গোয়ালঘর। ৪ টি গোয়ালঘরে ১০ টি গরু ছিল। মূলত গরুগুলো নিতেই তারা দলবেঁধে আসে। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে যাওয়ায় নিতে পারেনি। কিন্তু আমার দুই ছেলেকে কুপিয়ে জখম এবং আরেক ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেছে।
এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান আব্দুস ছালাম খাঁ।
এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, মূলত চুরির উদ্দেশ্যেই এসেছিল দুর্বৃত্তরা। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে যাওয়ায় চোরচক্র পালাচ্ছিলেন। এমন সময় বাড়ির লোকজন চোরচক্রের সদস্যদের ধরার চেষ্টা করলে হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে দুজনকে জখম করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। '
পহেলা নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া: রিজভী
নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে যা বললেন প্রেস সচিব