ভাড়া নিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৬ পিএম

টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে মাদ্রাসা মার্কেটের দোকান ভাড়া নিয়ে ১০ বছর যাবৎ ভাড়া পরিশোধ না করে দোকান দখলের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক পুলিশ সদস্যসের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তার প্রভাবে আরও দুইজন দোকান ভাড়া না দিয়ে দোকান দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য।

উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের ফোরকানিয়া নুরানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মার্কেটে থাকা ৩টি দোকান ঘর নিয়ে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন জানা গেছে, উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় ১৯৬০ সালে ফোরকানিয়া নুরানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের অনুদানে চলা মাদ্রাসাটির আয় বৃদ্ধির জন্য ২০০৫ সালে মাদ্রাসা কমিটি দেওড়া বাজারে একটি ভবন নির্মাণ করেন। ওই ভবনে পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ১টি দোকান  ভাড়া নেন। ভাড়া নেয়ার পর ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি দোকান ভাড়া পরিশোধ করলেও ২০১৬ সাল থেকে ভাড়া পরিশোধ না করে দোকান ঘর দখল করে রেখেছেন।

মার্কেটের অন্যান্য ভাড়াটিয়া দোকান ভাড়া দিলেও অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যের প্রভাবে অবসর প্রাপ্ত আরেক পুলিশ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ও মুনছের মিয়াও একইভাবে ভাড়া না দিয়ে দোকান দখল করে রেখেছেন। এসব নিয়ে মাদ্রাসা কমিটি সোচ্চার হলে তাদের জেএমবি, হেফাজত আবার কাউকে শিবির তকমা দিয়ে কোনঠাসা করে রাখা হতো বলে মসজিদ কমিটির লোকজন অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তিনি বলেন, মাদ্রাসার একটি দোকান তিনি ৬৫ হাজার টাকা জামানত দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভাড়ার টাকা পরিশোধ করছেন না। তিনি আরও জানান, আগে তাদের গ্রাম একটি সামাজের অন্তর্ভূক্ত ছিল বর্তমানে সমাজ ভেঙ্গে তিনটি সমাজ হয়েছে। আমি তিন সমাজের লোক নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার কথা বললেও বর্তমানে এক সমাজের লোক দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। এজন্য ভাড়া দেওয়া বন্ধ রেখেছি।

অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভাড়ার টাকা যাতে মাদ্রাসায় যায় তিনি সেই ব্যবস্থা করবেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.জাকির হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজন দোকান ভাড়া দিচ্ছেননা। আমরা বারবার নোটিশ দিলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেখতে বলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত