বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী আসার আগে প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে বন্দর সক্ষম

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১৮ এএম

চলতি সপ্তাহে বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চুক্তি হয়েছে জাপানি ঠিকাদারের সঙ্গে, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে আগস্টে চুক্তি হতে যাচ্ছে ডেনমার্কের মায়ারস্ক এপি মুলারের সঙ্গে। গত কয়েক দশকে যা হয়নি, বর্তমানে খুব কম সময়ে এসব মেগা প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব প্রকল্প অপারেশনে আসতে আরও কমপক্ষে পাঁচ বছর, মধ্যবর্তী সময়টি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কীভাবে সামাল দেবে সেসব বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। কথা বলেছেন দেশ রূপান্তর চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ভূঁইয়া নজরুল

দেশ রূপান্তর : রবিবারের একনেকে পাস হলো বে-টার্মিনাল ও মঙ্গলবারে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চুক্তি হলো জাপানি ঠিকাদারের সঙ্গে। গত বুধবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হলো বে-টার্মিনাল নির্মাণ নিয়ে। এক সপ্তাহে এতগুলো বড় কাজ করলেন। এসব প্রকল্পে পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান : দীর্ঘদিন আটকে থাকা বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের পর একনেকে অনুমোদন পেল। এখন এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ওয়াশিংটনে চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালে দুটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জিটুজি ভিত্তিতে চুক্তি হওয়া পিএসএ সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও অবশিষ্ট কাজ আগামী জুনে শেষ হয়ে যাবে। আর তা হয়ে গেলে টার্মিনাল নির্মাণের কাজও শুরু হবে। ২০৩১ সালে বে-টার্মিনালকে অপারেশনে আসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

অন্যদিকে মাতারবাড়ী বন্দর নির্মাণের জন্য জাপানি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় তারাও কাজ শুরু করে দেবে। ২০২৯ সালে মাতারবাড়ীও অপারেশনে আসার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

দেশ রূপান্তর : বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী আগামী পাঁচ বছরের আগে আসছে না। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে হ্যান্ডলিং করছে। প্রতিবছর বন্দরের হ্যান্ডলিং ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে। তাহলে দুই বৃহৎ প্রকল্প আসার আগে মধ্যবর্তী সময়ের বাড়তি হ্যান্ডলিং বন্দর কীভাবে সামাল দেবে? 

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান : প্রথমেই বলি পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে ডেনমার্কের মায়ারস্ক এপি মুলার সঙ্গে চুক্তির অবশিষ্ট কাজ আগামী আগস্টের মধ্যে হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আর তা হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের মধ্যে হয়তো তারা অপারেশনে আসতে পারবে। এবার আসি বন্দরের সক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো হবে? সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা দুটি পদ্ধতি প্রয়োগ করছি; প্রথমত ডিজিটাইলেজশন প্রযুক্তির ব্যবহার ও দ্বিতীয়ত বিদ্যমান অবকাঠামোর মধ্যে সংস্কার করে ক্যাপাসিটি বাড়ানো। আমরা বন্দরের ভেতরের সব কাজ ডিজিটালাইজড প্রযুক্তিতে করার লক্ষ্যে কাজ করছি, একই সঙ্গে কাস্টমসের কার্যক্রমও। বিশে^র যেকোনো স্থান থেকে ব্যাংকিং লেনদেনও করা যাবে। আর এগুলোর মাধ্যমে আমাদের কাজে গতি আসবে। অন্যদিকে বন্দরের ইয়ার্ডের ভেতরে আমরা নতুন অনেক স্পেস নির্মাণ করছি, যেখানে কনটেইনার রাখা যাবে। সব গাড়িকে বন্দরের ভেতর থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সেখানেও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওভারফ্লো ইয়ার্ডকে আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; এতে সেখানে আরও অধিক স্তরে কনটেইনার রাখা গেলে এনসিটি কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা আরও বাড়বে। ফলে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী আসার আগ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দক্ষতার সঙ্গেই কার্যক্রম করতে পারবে।

দেশ রূপান্তর : বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘অফডক’ ও ‘বন্ডেড ওয়্যার হাউজ’ নির্মাণে আপনার কী পরিকল্পনা রয়েছে?

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান : অফডক যত বাড়বে, বন্দরের ওপর চাপ তত কমবে। সেজন্য আগে যেখানে ৩৮টি পণ্য ছিল; আমরা আবেদন করার পর আরও ১২টি আমদানি পণ্য অফডকে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আমরা পর্যায়ক্রমে শতভাগ পণ্য অফডকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে। এতে আরও নতুন নতুন অফডক যেমন গড়ে উঠবে, তেমনি বন্দরের সক্ষমতাও বাড়বে। অন্যদিকে আমরা বন্দরের আওতায় ইউএসএইডের অর্থায়নে পৃথক একটি জোন করতে যাচ্ছি। এতে রেফার কনটেইনার (ফ্রিজার কনটেইনার) রাখা যাবে এবং বন্ডেড ওয়্যার হাউজের মতো একটি স্থানও থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত