পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের হাসান খেল এলাকায় অনুপ্রবেশের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ৫৪ জন ‘জঙ্গি’কে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির উর্দু বিভাগ জানাচ্ছে, ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে এই চরমপন্থী গোষ্ঠী তাদের বিদেশি প্রভুদের নির্দেশে পাকিস্তানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিল। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই কর্মকাণ্ড এমন এক সময়ে করেছে যখন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে এবং এটা স্পষ্ট করে যে তারা কার পক্ষে কাজ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল বলে বিবেচিত হবে। খবর বিবিসির।
বিবিসি উর্দু বিভাগ জানাচ্ছে, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) বৈঠকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ সরিয়ে দেয়াই ভারতের কৌশলগত কৌশল। যাতে করে তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মধ্যেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের সময় একদিনে এটাই সবচেয়ে বেশি ‘জঙ্গি’ নিহতের সংখ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনের সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, কিছুদিন ধরে আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে তাদের বিদেশি প্রভুরা যত দ্রুত সম্ভব পাকিস্তানে ঢুকে কিছু কার্যকলাপ চালানোর জন্য তাদের চাপ দিচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে নজরদারি এবং তল্লাশি জোরদার করা হয়েছিল এবং এ সময়ে তাদের সনাক্ত করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, আল্লাহকে ধন্যবাদ যে ভারত যে পদক্ষেপই নিক না কেন তা কোনও না কোনভাবে ধরা পড়ে বা আটকে যাচ্ছে। এই চরমপন্থীদেরও পাকিস্তানে ঢুকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে সেখান থেকে চাপ দেয়া হচ্ছিল।
