উচ্চমানের কাগজ ও পেপারবোর্ড আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানান তারা। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
চারটি সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এগুলো হলো বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, মেট্রোপলিটন প্রেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম কাগজ ও সেলোফেন ব্যবসায়ী গ্রুপ। তাদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল উচ্চমানের কাগজ ও পেপারবোর্ড (এইচএস কোড ৪৮১০) আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা। প্রকাশনা, প্যাকেজিং ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের জন্য এটি অপরিহার্য কাঁচামাল।
বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সফিকুল ইসলাম ভরসা বলেন, ‘প্লাস্টিক শিল্পের মতো ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি নির্ধারণ করলে দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব ফাঁকি রোধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব হাজার হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।’
চট্টগ্রাম কাগজ ও সেলোফেন ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে আয়কর আপিলের জন্য ১০ শতাংশ এবং হাইকোর্টে ২৫ শতাংশ অগ্রিম জমা দিতে হয়। আমরা উভয় ক্ষেত্রেই ৫ শতাংশ কমানোর দাবি জানাই, যাতে অসাধু কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ হয়।’
বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘যদি তা না করা হয়, তবে বন্ড অপব্যবহারকারীরা লাভবান হবেন এবং সরকার রাজস্ব হারাবে।’ এছাড়া মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ঈদে ছুটির সময় কাগজ খালাসে দেরির কারণে স্টোরেজ ভাড়া চারগুণ বাড়ানো অন্যায়। অতিরিক্ত এই ভাড়া উৎপাদন খরচ বাড়াবে, পণ্যের দাম বাড়াবে এবং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তিনি স্টোরেজ ভাড়ার পুরাতন হার পুনর্বহালের দাবি জানান। তিনি জানান, দেশে কাগজ ও প্যাকেজিং শিল্পে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ কাজ করছেন। কর্মসংস্থান রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে এসব দাবি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান।
