ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সৈন্য পাঠাল উত্তর কোরিয়া

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৫, ১১:১১ এএম

উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, দেশটি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করতে তাদের সৈন্য পাঠিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ং-এর সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের সৈন্যরা ইউক্রেনের কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চল ‘পুরোপুরি মুক্ত’ করার জন্য রাশিয়ান বাহিনীকে সহায়তা করেছে। দেশটির নেতা কিম জং উনের নির্দেশে এটি করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর: বিবিসি।

রাশিয়ার চীফ অফ স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের বীরত্বের প্রশংসা করার পর উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। মস্কোও এই প্রথম প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণ স্বীকার করেছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, তবে ইউক্রেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে, পিয়ংইয়ং গত বছর কুরস্ক অঞ্চলে সৈন্য পাঠিয়েছে।

কেসিএনএ জানিয়েছে, এই সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পিয়ংইয়ং এবং মস্কোর মধ্যে পারস্পারিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে। কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘যারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছে, তারা সবাই বীর এবং মাতৃভূমির সম্মানের প্রতিনিধি।’

কুরস্কে নিজেদের জোট ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রদর্শন করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া। তারা দাবি করেছে, ‘রক্তে প্রমাণিত বন্ধুত্ব’ তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা তাদের সহযোগিতা বাড়াবে।

তবে কেসিএনএ এ বিষয়ে কিছু বলেনি যে, কুরস্ক মিশন শেষে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের নিয়ে কী করা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিম জং উন এবং ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে গত অক্টোবর মাসে এই সেনাদের মোতায়েন করা হয়।

জানুয়ারিতে পশ্চিমা কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী, গত তিন মাসে উত্তর কোরিয়া থেকে পাঠানো কমপক্ষে এক হাজার থেকে এগার হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছে। এই সেনাদলটি একটি এলিট ইউনিট, যার নাম স্টর্ম কর্পস, তবে আধুনিক যুদ্ধের জন্য তাদের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল।

এ বিষয়ে সাবেক ব্রিটিশ আর্মি ট্যাংক কমান্ডার কর্নেল হামিশ ডি ব্রেটন গর্ডন বলেন, ‘তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে রাশিয়ান কর্মকর্তারা, কিন্তু তারা ঠিকভাবে বুঝতে পারছিল না।’

তবে ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ওলেকসান্দ্র সিরস্কি আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, রণাঙ্গনে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের জন্য একটি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা অনেক। অতিরিক্ত ১১/১২ হাজার অনুপ্রাণিত এবং ভালোভাবে প্রস্তুত সেনা আক্রমণাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা সোভিয়েত কৌশলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে এবং তাদের সংখ্যা দ্বারা শক্তি অর্জন করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত