৫ শিশুর ১ জন ভিটামিন এ ও দুইজন ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভুগছে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:১৯ পিএম

জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ ২০১১-১২ অনুযায়ী দেশে প্রাক-বিদ্যালয়গামী প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন ভিটামিন ‘এ’ ও দুইজন ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভুগছে। ভিটামিন ‘এ’-র অভাবে অন্ধত্ব, গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যুসহ নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাব রিকেটস ও হাড় ক্ষয়ের পাশাপাশি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে প্রজ্ঞা ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়। 

কর্মশালায় বলা হয়, ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ ব্যতীত ভোজ্যতেল বাজারজাত করা নিষিদ্ধ। কিন্তু আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে মোট ভোজ্যতেলের ৬৫ শতাংশই ড্রামে বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশ তেলে কোনও ভিটামিন এ নেই ও ৩৪ শতাংশ তেলে রয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে কম মাত্রায়। মাত্র ৭ শতাংশ ড্রামের খোলা তেলে আইন অনুসারে ভিটামিন `এ`-এর নির্ধারিত পরিমাণ পাওয়া গেছে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, নন-ফুড গ্রেড উপকরণে তৈরি ড্রামে সংরক্ষিত খোলা ভোজ্যতেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি এতে ভেজাল মেশানোর আশঙ্কাও থাকে। এই পুরোনো ড্রামগুলোতে কোনও লেবেল বা উৎস সম্পর্কিত তথ্য না থাকায় তেলের উৎপত্তিস্থল বা সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা যায় না। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ড্রামে খোলা সয়াবিন তেল বাজারজাতকরণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

কর্মশালায় ভোজ্যতেলে গুণগতমানের প্যাকেজিং নিশ্চিতের উপরও জোর দেওয়া হয়। বক্তারা জানান, সাধারণত সূর্যরশ্মিসহ যেকোনও আলোর সংস্পর্শে ভিটামিন এ নষ্ট হতে থাকে এবং একপর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। ভোজ্যতেল বাজারজাত হয় যেসব বোতলে সেগুলোর অধিকাংশই আলো প্রতিরোধী না হওয়ায় ভোজ্যতেলের গুণগত ও পুষ্টিমান হ্রাস পায়। সে কারণে ভোজ্যতেলের প্যাকেজিংয়ের জন্য আলো প্রতিরোধী অস্বচ্ছ উপাদান ব্যবহার করা উচিত।

কর্মশালায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর উপপরিচালক (সিএম) এস এম আবু সাঈদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত