ইউরোপা লিগে শিরোপা না জিতলে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ধাক্কা, ম্যানইউর সামনে অস্তিত্বের সংকট

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম

ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু এই লড়াইয়ের পেছনে গল্পটা শুধুই ট্রফির নয়—বরং এর চেয়েও বড় অর্থনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই। শিরোপা না জিততে পারলে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি পাউন্ড হারানোর শঙ্কায় ক্লাবটি।

আগামী বৃহস্পতিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে ইউরোপা লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ খেলতে নামবে ইউনাইটেড। তাদের লিগ পারফরম্যান্স এমন পর্যায়ে গেছে যে, ইউরোপা লিগ জেতাই এখন একমাত্র ভরসা—অন্যথায় ক্লাবটির ৩৫ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা ছাড়াই কাটাতে হবে একটি মৌসুম।

বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের ১৪তম স্থানে থাকা ইউনাইটেড নিশ্চিতভাবে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে লিগ মৌসুম পার করছে। সমর্থকরা যেন এখন ইউরোপে না খেলার অভ্যস্ত হয়ে গেছেন—গত ১৩ মৌসুমে ছয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা হয়নি রেড ডেভিলদের।

সহ-মালিক জিম র‌্যাটক্লিফ সম্প্রতি জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করলে আয় হয় ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড, আর ইউরোপা লিগে খেলেও আসে প্রায় ৪০ মিলিয়ন। ফুটবল অর্থনীতিবিদ কিয়েরান ম্যাগুয়্যারের ভাষায়, ‘গেট রসিদ, স্পনসর বোনাস ও পুরস্কার অর্থ মিলিয়ে একটি ভালো মৌসুমে আয় ১০০ মিলিয়নের অনেক ওপরে যেতে পারে।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২০২৪-২৫ মৌসুমের প্রথমার্ধে ম্যাচডে আয় ছিল প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.২ মিলিয়ন পাউন্ড। আগামী মৌসুমে টিকিটের দাম বাড়ায় এ আয় ৬ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪ থেকে ৮টি হোম ম্যাচ ধরে হিসাব করলে শুধু টিকিট থেকেই হারানো আয় দাঁড়ায় ২৪ থেকে ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড।

এ ছাড়া অ্যাডিডাসের কিট ডিল থেকে বছরে ১০ মিলিয়ন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যদি চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা না হয়। অন্য স্পনসর—কোয়ালকম, ডিএক্সসি বা টেজোস—এসব চুক্তিতেও হয়তো গোপন ইনসেনটিভ ছিল। সব মিলিয়ে হিসাবটা গড়পড়তায় ১০০ মিলিয়নের ক্ষতির দিকে যায়।

অবশ্য ইউরোপে না খেললে খেলোয়াড়দের অনেকের বেতনে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কাটছাঁট আসতে পারে, ফলে খরচ কিছুটা কমবে। আগের মৌসুমেই ইউনাইটেডের মোট বেতন ২২ মিলিয়ন পাউন্ড কমেছে।

তবু এত বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা ইউনাইটেডের দলবদল পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাজারে ক্লাবটির আকর্ষণ পর্যন্ত সবকিছুতেই বড় প্রভাব ফেলবে। এমন অবস্থায় ক্লাবটির নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের ২ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘোষণা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে, কারণ অর্থের উৎস এখনো অনির্দিষ্ট।

অন্তর্বর্তীকালীন কোচ আমোরিম সাফ জানিয়েছেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ সবকিছু বদলে দিতে পারে। বাজেট বাড়ে, ভালো দল গড়ার সুযোগ তৈরি হয়।’ সিইও ওমর বেররাদা অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, ইউরোপে না গেলেও তারা কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে দল গড়বেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—১ বিলিয়ন পাউন্ডের দেনা, ৩৩১ মিলিয়ন পাউন্ডের বাকি থাকা দলবদল ফি, ও গত পাঁচ বছরে ৩৭০ মিলিয়নের বেশি লোকসানের ক্লাবটির জন্য সামনে আরও খাড়া এক পাহাড়।

সেই পাহাড় ডিঙাতে হলে ইউরোপা লিগ শিরোপা এখন শুধু সম্মান রক্ষার নয়, বরং আর্থিক বাঁচনের চূড়ান্ত শর্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত