সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের মনোবল এখন তুঙ্গে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। কাশ্মীরের পহেলগাঁমে হামলায় ভারতের অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলেও মন্তব্য করেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এর ফলে ভারতীয়রা মোদির বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন খাজা আসিফ। আজকের কোর কমান্ডারের বৈঠকের পর সেনাপ্রধানের ‘দৃঢ় সংকল্পের’ প্রশংসা করে তার কমান্ডকে ‘যথাযথ’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
এর আগে আজ রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) কোর কমান্ডার্স কনফারেন্সের (সিসিসি) একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তারা বর্তমান পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সুরক্ষা ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিদ্যমান ভূ-কৌশলগত পরিবেশের পর্যালোচনা করেন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘গত পাঁচ দিনে তিনি (সেনাপ্রধান) যেভাবে বিভিন্ন সেনানিবাস, নিয়ন্ত্রণরেখা ও ওয়ার্কিং বাউন্ডারিতে সেনাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাতে সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের মধ্যে মনোবল বেড়েছে। আল্লাহ চাইলে কোর কমান্ডারের মিটিংয়ের পর যে কমিউনিকেশনের কথা বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি ঠিক সেরকমই হবে।’
আসিফ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিন্দুমাত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নথি ফাঁস হয়েছে, যে হামলার প্রস্তুতি ছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হবে। তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এসব করেছে।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনও দেশই ভারতের বক্তব্য বিশ্বাস করেনি বা এই ঘটনার পরে তাদের সমর্থন করেনি। এমনকি তার (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির) লোকজন এবং মিডিয়াও এর পেছনে দাঁড়াচ্ছে না।
সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, ভারতের চুক্তি স্থগিতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আইনি পদক্ষেপ নেবে।
আসিফ বলেন, ‘তারা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আমি যতটুকু জানি, কাশ্মীর থেকে চেনাব ও ঝিলম প্রবাহিত হয়। এর অবস্থান তাদের পরিবর্তন করার অনুমতি নেই। তারা যদি পানি সরানোর জন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে, তাহলে আমাদের অধিকার আছে সেখানে আঘাত করার; এটা যুদ্ধের শামিল।’
