ফেনীতে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে কবুতর ও মুরগি চুরির অভিযোগ এনে শত শত মানুষের সামনে তাদের মাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করে নাকে খত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন এক ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ফেনী সদর উপজেলের পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের খালুর দোকান এলাকায় পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতুত্বে এ ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা দেলুর সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে ।
জানা যায়, সম্প্রতি খালুর দোকান সংলগ্ন জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে কবুতর ও মুরগি চুরির অভিযোগ উঠে স্থানীয় দুই কিশোরের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ মে) রাতে সালিশের আয়োজন করে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর। প্রধান বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু। সালিশে অভিযুক্তদের মারধর করে পুলিশে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা শুনে এলাকা থেকে পালিয়ে যান কিশোররা। রাতে সালিশে কিশোরদের না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দুই কিশোরের মায়েদের ডেকে সবার সামনে নানাভাবে হেনস্তা করে নাকে খত দেওয়াতে বাধ্য করেন বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেলু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুইজন হতভাগা মাকে নাকে খত দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়।
১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলায় অনেক মানুষের সামনে চেয়ারে বসে বিচার করছেন বিএনপি নেতা দেলু চেয়ারম্যান। ওই ভিডিওতে হাতে লাঠি নিয়ে দুই কিশোরের মাকে খত দিতে নির্দেশ দিয়ে মাটিতে দাগ দিচ্ছেন দেলু চেয়ারম্যান। ভয়ে বাধ্য হয়ে বোরকা পরা দুই নারী মাটিতে লুটে নাকে খত দিচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পরই এ ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এরপর থেকে কিশোরের অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে গ্রামে সালিশের আয়োজন করে তাদের মায়েদের হেনস্তা করা ও নাকে খত দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশিষ্টজনরা। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী৷
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত দুই কিশোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে সালিশের আয়োজন করা ষড়যন্ত্রমূলক। ওই সালিশে কিশোরদের অপরাধে তাদের মায়েদের মধ্যযুগীয় কায়দায় হেনস্তা করা আইনগত অপরাধ। এর বিচার হওয়া উচিত।
সালিশের বিচারক ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, কিশোরদেন অপরাধে তাদের মায়েদের শাস্তি দেওয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। তবে, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এমনটি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি৷
ফেনীর জজ কোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন হেলপী বলেন, একজনের অপরাধে অন্যজন শাস্তি পেতে পারেন না। জনসম্মুখে এমন নির্যাতন অপরাধ।
জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে রবিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামে সালিশি বৈঠকে নারীর প্রতি অসম্মানজনক ও উদ্ধতপূর্ণ আচরনের অভিযোগে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর বিএনপির সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করেছে ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমানউদ্দিন কায়সার সাব্বির।
ভিক্ষা নয়, ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা চাই
নীরবতা ভেঙে সরব হচ্ছে সিলেটের ক্রিকেট
গাজীপুরে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হাসনাত আব্দুল্লাহ