দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে শুরু হয়েছে বোরো মৌসুমের ধান কাটা মাড়াই। এতে বাজারে আসতে শুরু করেছে দেশীয় নতুন চাল। সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে সবধরনের চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা করে কমেছে। এদিকে চালের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ। পুরোদমে নতুন চাল আসতে শুরু করলে দাম আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিন হিলির চালের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সব চালের দোকানেই চালের ভালো সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। পুরাতন চালের পাশাপাশি নতুন চাল দেখতে পাওয়া গেছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম কমতির দিকে রয়েছে। শম্পাকাটারি জাতের চাল একসপ্তাহ আগে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, সেই চাল এখন কমে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া স্বর্ণা জাতের চাল ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, তা এখন ৫২ থেকে ৫৩ টাকা কেজি। মিনিকেট ৬৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা কমে ৬৪ টাকা।
হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা আব্দুল খালেক বলেন, আমি ভ্যান চালিয়ে খাই, সারাদিন ভ্যান চালিয়ে ৪ থেকে ৫’শ টাকা আয় হয়। আমার প্রতিদিন চাল লাগে ৩ থেকে ৪ কেজি। কিন্তু বাজারে গরীব মানুষের যে মোটা চাল সেটি ৫৫ টাকার নিচে ছিল না। চাল কিনতেই অর্ধেকের বেশি টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তরিতরকারি বা ভ্যানের কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এখন চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে এতে করে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। আমরা চাই চালের দাম একটু কম থাকুক তাহলে আমাদের মত মানুষ অন্তত ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবে।
হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা সামসুল আলম বলেন, বাজারে যে হারে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছিল তাতে করে আমাদের মত মানুষদের বেশ বিপাকের মধ্যেই পড়তে হচ্ছিল। বাড়তি দামের কারণে যে পরিমাণ চালের চাহিদা সেই পরিমাণ কিনতে পারছিলাম না। এখন কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছে, যার কারণে বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে চালের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা করে কমেছে। এতে করে আমাদের মত মানুষদের জন্য বেশ সুবিধা হয়েছে। আমরা এখন চাহিদামত চাল কিনতে পারছি। তবে দাম যদি আরও কমলে ভালো হয়। সামনে যেহেতু বোরোর ভরা মৌসুম এ সময়ে যেন চালের দাম কম থাকে আমরা সেই দাবি জানাচ্ছি।
হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক বলেন, দেশীয় চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি দেয়। এরপর ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের চালের দাম নিয়ন্ত্রনের মধ্যেই ছিল। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল চাল আমদানির অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এর পর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে আমদানি বন্ধের খবরে হঠাৎ করেই দেশের বাজারে চালের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল। এছাড়া আমদানিকাকররাও আমদানি বন্ধের কারনে চালের দাম কিছুটা বাড়িয়ে বিক্রি করছিলেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ধান কাটতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই বাজারে দেশীয় নতুন জাতের চাল আসতে শুরু করেছে। এতে করে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় চালের দাম কমতে শুরু করেছে। সামনে চালের সরবরাহ আরও বাড়বে এতে করে দাম কমবে। সেই সাথে যেসব আমদানিকারক চাল মজুদ করে রেখেছিলেন তারাও এখন আগের চেয়ে কম দামে চাল ছাড়তে শুরু করেছেন এতে করে দাম কমতে শুরু করেছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিক্রেতারা কি দামে পণ্য কিনছেন আবার কি দামে বিক্রি করছেন সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে বাড়তি দাম বা কোন কারসাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। ক্রেতাদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
